দুবাই সংযুক্ত আরব আমিরাত     রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
LIVE
রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
ENGLISH

ঝিনাইদহে রসুন-পেঁয়াজ চাষের ধুম: দাম না পাওয়ার শঙ্কায় হরিণাকুণ্ডুর চাষিরা

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় চলতি রবি মৌসুমে মসলাজাতীয় ফসল রসুনের আবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষকরা। অনুকূল আবহাওয়া আর বাজারে উপযুক্ত দাম পাওয়ার আশায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠজুড়ে চলছে রসুন বীজ বপনের উৎসবমুখর কাজ।ঐতিহাসিকভাবে এ অঞ্চলে ধান, কলা ও পান প্রধান অর্থনৈতিক ফসল হিসেবে বিবেচিত হলেও বিগত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে উপজেলায় বিপুল পরিমাণে পেঁয়াজ ও রসুনের চাষ হচ্ছে। মূলত বিগত দুই দশক ধরে দেশের সামগ্রিক পেঁয়াজ ও রসুনের মোট উৎপাদনের একটি বড় অংশই জোগান দিয়ে আসছে ঝিনাইদহ জেলা। মসলাজাতীয় এই দুই ফসলের দেশব্যাপী ব্যাপক চাহিদা ও বাম্পার উৎপাদন উপজেলার গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক বিশাল ও ইতিবাচক পরিবর্তন এনে দিয়েছে।সরেজমিনে উপজেলার সোহাগপুর গ্রামের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, কৃষকরা দলবদ্ধভাবে জমি প্রস্তুত করে অত্যন্ত নিপুণভাবে সারিবদ্ধ উপায়ে রসুনের কোয়া বা বীজ রোপণ করছেন। মাঠের কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সোহাগপুর গ্রামের আদর্শ কৃষক বজলুর রহমানের কথা তার জমিতেই শ্রমিকদের রসুন বপন করতে দেখা যাচ্ছে।আলাপকালে রসুন চাষি বজলুর রহমান জানান, ধান বা অন্য ফসলের তুলনায় মসলাজাতীয় ফসল চাষে খরচ ও খাটাখাটুনি  বেশি হলেও গত কয়েক বছর ধরে বাজারে  ভালো দাম পাচ্ছিনা চাষ করতে হয় তাই নিরুপায় হয়েই করছি।  এবার আমি নিজে ২ একর জমিতে রসুন এবং ৩.৫০ একর জমিতে পেঁয়াজ রোপণ করেছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং সঠিক সময়ে সার-কীটনাশক দিতে পারলে এবারও বাম্পার ফলন  ঘরে তুলতে পারব।ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট আবাদি জমির পরিমাণ ১ লাখ ৫০ হাজার হেক্টর। এর মধ্যে চলতি মৌসুমে ঝিনাইদহ জেলার সদর, শৈলকূপা, কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর ও মহেশপুরের পাশাপাশি হরিণাকুণ্ডু উপজেলাসহ মোট ২ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে রসুনের আবাদ করা হচ্ছে। জেলাজুড়ে রসুনের মোট উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৫ হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলার মোট পেঁয়াজ ও রসুন উৎপাদনের সিংহভাগ শৈলকূপা উপজেলা থেকে আসলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হরিণাকুণ্ডু এবং সদর উপজেলার মাঠগুলোতে মসলাজাতীয় এই ফসলের আবাদ দ্রুত হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।হরিণাকুণ্ডু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, রসুনের ভালো ফলন নিশ্চিত করতে আমরা কৃষকদের নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ এবং লজিস্টিক সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছি। বিশেষ করে বীজ রোপণের সঠিক পদ্ধতি এবং সুষম সার ব্যবহারের বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে আমাদের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন। বজলুর রহমানের মতো বড় ও প্রগতিশীল চাষিদের এই উদ্যোগ অন্য কৃষকদেরও মসলা চাষে ব্যাপকভাবে উদ্বুদ্ধ করছে। অনুকূল আবহাওয়া এবং বাজার দর স্থিতিশীল থাকলে হরিণাকুণ্ডুর রসুন চাষিরা এবারও তাদের শ্রমের সঠিক মূল্য পাবেন এবং এই অঞ্চল জেলা তথা দেশের অন্যতম প্রধান রসুন ও পেঁয়াজ উৎপাদনকারী হাব হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 ঝিনাইদহে রসুন-পেঁয়াজ চাষের ধুম: দাম না পাওয়ার শঙ্কায় হরিণাকুণ্ডুর চাষিরা
🔒