দুবাই সংযুক্ত আরব আমিরাত     বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
LIVE
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ENGLISH

ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশেষ গুরুত্ব সরকারের


মিরাজ হোসেন
সম্পাদক ও প্রকাশক, ৭ ফলোয়ার
প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩২ এএম

ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশেষ গুরুত্ব সরকারের
ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ |সংগৃহীত

বিদ্যমান নেট এনার্জি মিটারিং পদ্ধতিতে বিতরণ সংস্থাগুলো সৌর বিদ্যুতের হিসাব রাখবে এবং তিন মাস অন্তর প্রণোদনার অর্থ প্রদান করা হবে। বিদ্যুৎ বিভাগের নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র অনুযায়ী, ছাদে ৫৫০০ মেগাওয়াট এবং ভূমিভিত্তিক ৪০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। তবে সরকারি-বেসরকারি আবাসিক ও শিল্প খাতের ভবনের ছাদ ব্যবহার করে এই বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। শিল্প কারখানা এবং ঢাকার আবাসিক ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল বসিয়ে পুরো চাহিদা পূরণ সম্ভব নয় বলে মনে করছেন তারা। নিজস্ব চাহিদা পূরণ করা যেখানে সম্ভব নয়, সেখানে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বিক্রি করা নিয়ে বড় সংশয় রয়েছে। এছাড়া চাহিদার অতিরিক্ত উৎপাদন করতে বিনিয়োগ এবং তিন বছর মেয়াদি কেনার ঘোষণাটি খুব একটা আকর্ষণীয় নয় বলে সমালোচনা রয়েছে। বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে নতুন ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েছে, যেখানে ছাদভিত্তিক উৎপাদনে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ জানান যে এখনো অনেক বিষয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে যা পরিষ্কার করা দরকার। ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিদ্যুৎ কেনার কথা বলা হলেও এই বিক্রি আসলে কে করবে এবং স্যান্ডশন লোডের বাইরে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ কোথায় পাওয়া যাবে তা স্পষ্ট নয়। ছাদে প্রতি কিলোওয়াট সৌর বিদ্যুতের জন্য ৭০ বর্গফুট জায়গার প্রয়োজন হওয়ায় ঢাকা শহরের মতো এলাকায় এটি কতটা সফল হবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। একটি বহুতল আবাসিক ভবনে অনেক ফ্ল্যাটমালিক থাকায় রুফটপ ব্যবহার করে লাভবান হওয়া অসম্ভব এবং ব্যাটারিসহ বিনিয়োগ করলে কোনো প্রফিট থাকে না। সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে এককালীন বিনিয়োগই প্রধান খরচ এবং বর্তমান বাজারে কিলোওয়াট প্রতি ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করতে হয়। তিন কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার প্ল্যান্ট বসাতে দেড় থেকে পৌনে দুই লাখ টাকা খরচ হতে পারে এবং ব্যাটারি স্টোরেজ নিলে খরচ প্রায় তিন লাখ টাকায় পৌঁছায়। কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভাইরমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্কের প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী বলেন যে আবাসিক গ্রাহকদের উৎসাহিত করলে দিনের বিদ্যুতের বড় অংশ সাশ্রয় হবে। তবে ব্যাটারি স্টোরেজের বাধ্যবাধকতা থাকায় ওভারঅল খরচ বেড়ে যাবে এবং নেট বিলিংয়ের পরিবর্তে ফিড ইন ট্যারিফে যাওয়া উচিত ছিল। সরকারের সাড়ে ১০ টাকা দরে সোলার বিদ্যুৎ কেনার ঘোষণা থাকলেও গ্রাহককে গ্রিডের বিদ্যুৎ বেশি দামে কিনতে হলে ছোট বিনিয়োগকারীরা লাভবান হবেন না। ব্যাংক লোন নিয়ে বিনিয়োগ করলে উৎপাদন খরচ ১৩ থেকে ১৪ টাকায় চলে যাবে, ফলে সাড়ে ১০ টাকায় বিক্রি করা ছোট পরিবারের জন্য লাভজনক নয়। পোশাক খাতে একদিকে বিদ্যুৎ সংকট এবং অন্যদিকে ২০৩০ সালের মধ্যে ক্রেতাদের শর্ত অনুযায়ী নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সিপিডির সমীক্ষা অনুযায়ী পোশাক কারখানার ছাদে ১৭৬৮ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব যার জন্য প্রায় ২২০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ লাগবে। বিজিএমইএ-এর স্ট্যান্ডিং কমিটি অন এনার্জি অপটিমাইজেশন বিভাগের চেয়ারম্যান নিশাত নাহরিন হামিদ জানান যে ছোট-বड़ा ৪৫৩টি ফ্যাক্টরি সোলার রুফটপ স্থাপনে আগ্রহী হলেও তাদের প্রধান সমস্যা হলো অর্থায়ন জটিলতা। ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুতের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে শুল্ক দূর করা, সুদমুক্ত ঋণ এবং সরকারের প্রণোদনা আরও আকর্ষণীয় করা প্রয়োজন। হাসান মেহেদী লক্ষ্য পূরণের জন্য পাবলিকের জন্য পাঁচ শতাংশের নিচে কম সুদে লোন, প্রিফাইনান্সিং ব্যবস্থা এবং স্পেশাল ফান্ড রাখার মতো পাঁচটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। এছাড়া ছাদ ছাড়াও ভূমিভিত্তিক প্রকল্প থেকে সাড়ে চার হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ও পিপিপি পদ্ধতির পরিকল্পনা রয়েছে। মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন যে স্থানীয় ব্যাংকগুলোর সেই সক্ষমতা না থাকায় এই বিশাল লক্ষ্য বাস্তবায়নে অন্তত সাত বিলিয়ন ডলার বিদেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন। বিনিয়োগের নিশ্চয়তায় ঘাটতি, আস্থার সংকট এবং দক্ষ জনবলের অভাবের পাশাপাশি ৩ হাজার মেগাওয়াটের বেশি প্রকল্প বাতিল হওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা বর্তমানে একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: /৫ ( ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

নড়াইলে ৩ টি প্লাস্টিক বোতলে ১ গাছের চারা, পরিবেশ রক্ষায় চলো পাল্টাই বাংলাদেশের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

নড়াইলে ৩ টি প্লাস্টিক বোতলে ১ গাছের চারা, পরিবেশ রক্ষায় চলো পাল্টাই বাংলাদেশের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

তানযীমুল উম্মাহ আলিম মাদরাসায় ‘দ্রোহের জুলাই’ পালিত

তানযীমুল উম্মাহ আলিম মাদরাসায় ‘দ্রোহের জুলাই’ পালিত

পঞ্চগড় জেলা প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি সভাপতি রাসেদুজ্জামান রাসেদ সাধারণ সম্পাদক ডিজার হোসেন বাদশা

পঞ্চগড় জেলা প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি সভাপতি রাসেদুজ্জামান রাসেদ সাধারণ সম্পাদক ডিজার হোসেন বাদশা

সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবাসীদের সংকট নিরসন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ সিআইপি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন, দুবাই-এর প্রতিনিধিদের সাথে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর মতবিনিময়

সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবাসীদের সংকট নিরসন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ সিআইপি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন, দুবাই-এর প্রতিনিধিদের সাথে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর মতবিনিময়

তেঁতুলিয়ায় ১০০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

তেঁতুলিয়ায় ১০০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

নড়াইলে স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে ‘চলো পাল্টাই বাংলাদেশ’-এর উঠান বৈঠক

নড়াইলে স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে ‘চলো পাল্টাই বাংলাদেশ’-এর উঠান বৈঠক

তেঁতুলিয়া প্রেস ক্লাবের ৩ বছর পর নতুন কমিটি গঠন

তেঁতুলিয়া প্রেস ক্লাবের ৩ বছর পর নতুন কমিটি গঠন

নওগাঁয় পানিতে ডুবে শিক্ষকের মৃত্যু

নওগাঁয় পানিতে ডুবে শিক্ষকের মৃত্যু

মানিকগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান

মানিকগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান

নওগাঁয়  নিজ মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার

নওগাঁয় নিজ মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম বন্দরে মোটর পার্টসের চালানে মিলল ১৯ ইঞ্জিন ও ২ গাড়ি

চট্টগ্রাম বন্দরে মোটর পার্টসের চালানে মিলল ১৯ ইঞ্জিন ও ২ গাড়ি

জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে বিজিএমইএর মতবিনিময়

জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে বিজিএমইএর মতবিনিময়

গুম হওয়া আলামিনের মা ও শহীদ জুবায়েরের বোনের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

গুম হওয়া আলামিনের মা ও শহীদ জুবায়েরের বোনের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে পাশে থাকবে ওআইসি

রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে পাশে থাকবে ওআইসি

বনশ্রীতে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে স্কুলশিক্ষিকা নিহত

বনশ্রীতে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে স্কুলশিক্ষিকা নিহত

ফসলে কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপে গুরুত্বারোপ: Daily Naya Diganta (দৈনিক নয়া দিগন্ত)

ফসলে কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপে গুরুত্বারোপ: Daily Naya Diganta (দৈনিক নয়া দিগন্ত)

স্থানীয় নির্বাচন বিলম্বিত করার প্রবণতা দেখছে জামায়াত

স্থানীয় নির্বাচন বিলম্বিত করার প্রবণতা দেখছে জামায়াত

হাজারীবাগে ড্যাফোডিল শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

হাজারীবাগে ড্যাফোডিল শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

সম্পত্তি হস্তান্তর বিল: আইনমন্ত্রীর সঙ্গে তরুণ আলেমদের বৈঠক

সম্পত্তি হস্তান্তর বিল: আইনমন্ত্রীর সঙ্গে তরুণ আলেমদের বৈঠক

ধানমন্ডি লেক ও সাত মসজিদ রোডে ডিএসসিসির উচ্ছেদ অভিযান

ধানমন্ডি লেক ও সাত মসজিদ রোডে ডিএসসিসির উচ্ছেদ অভিযান

BD-24.COM | Latest Bangladesh & World News

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশেষ গুরুত্ব সরকারের

প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বিদ্যমান নেট এনার্জি মিটারিং পদ্ধতিতে বিতরণ সংস্থাগুলো সৌর বিদ্যুতের হিসাব রাখবে এবং তিন মাস অন্তর প্রণোদনার অর্থ প্রদান করা হবে। বিদ্যুৎ বিভাগের নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র অনুযায়ী, ছাদে ৫৫০০ মেগাওয়াট এবং ভূমিভিত্তিক ৪০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। তবে সরকারি-বেসরকারি আবাসিক ও শিল্প খাতের ভবনের ছাদ ব্যবহার করে এই বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। শিল্প কারখানা এবং ঢাকার আবাসিক ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল বসিয়ে পুরো চাহিদা পূরণ সম্ভব নয় বলে মনে করছেন তারা। নিজস্ব চাহিদা পূরণ করা যেখানে সম্ভব নয়, সেখানে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বিক্রি করা নিয়ে বড় সংশয় রয়েছে। এছাড়া চাহিদার অতিরিক্ত উৎপাদন করতে বিনিয়োগ এবং তিন বছর মেয়াদি কেনার ঘোষণাটি খুব একটা আকর্ষণীয় নয় বলে সমালোচনা রয়েছে। বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে নতুন ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েছে, যেখানে ছাদভিত্তিক উৎপাদনে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ জানান যে এখনো অনেক বিষয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে যা পরিষ্কার করা দরকার। ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিদ্যুৎ কেনার কথা বলা হলেও এই বিক্রি আসলে কে করবে এবং স্যান্ডশন লোডের বাইরে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ কোথায় পাওয়া যাবে তা স্পষ্ট নয়। ছাদে প্রতি কিলোওয়াট সৌর বিদ্যুতের জন্য ৭০ বর্গফুট জায়গার প্রয়োজন হওয়ায় ঢাকা শহরের মতো এলাকায় এটি কতটা সফল হবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। একটি বহুতল আবাসিক ভবনে অনেক ফ্ল্যাটমালিক থাকায় রুফটপ ব্যবহার করে লাভবান হওয়া অসম্ভব এবং ব্যাটারিসহ বিনিয়োগ করলে কোনো প্রফিট থাকে না। সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে এককালীন বিনিয়োগই প্রধান খরচ এবং বর্তমান বাজারে কিলোওয়াট প্রতি ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করতে হয়। তিন কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার প্ল্যান্ট বসাতে দেড় থেকে পৌনে দুই লাখ টাকা খরচ হতে পারে এবং ব্যাটারি স্টোরেজ নিলে খরচ প্রায় তিন লাখ টাকায় পৌঁছায়। কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভাইরমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্কের প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী বলেন যে আবাসিক গ্রাহকদের উৎসাহিত করলে দিনের বিদ্যুতের বড় অংশ সাশ্রয় হবে। তবে ব্যাটারি স্টোরেজের বাধ্যবাধকতা থাকায় ওভারঅল খরচ বেড়ে যাবে এবং নেট বিলিংয়ের পরিবর্তে ফিড ইন ট্যারিফে যাওয়া উচিত ছিল। সরকারের সাড়ে ১০ টাকা দরে সোলার বিদ্যুৎ কেনার ঘোষণা থাকলেও গ্রাহককে গ্রিডের বিদ্যুৎ বেশি দামে কিনতে হলে ছোট বিনিয়োগকারীরা লাভবান হবেন না। ব্যাংক লোন নিয়ে বিনিয়োগ করলে উৎপাদন খরচ ১৩ থেকে ১৪ টাকায় চলে যাবে, ফলে সাড়ে ১০ টাকায় বিক্রি করা ছোট পরিবারের জন্য লাভজনক নয়। পোশাক খাতে একদিকে বিদ্যুৎ সংকট এবং অন্যদিকে ২০৩০ সালের মধ্যে ক্রেতাদের শর্ত অনুযায়ী নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সিপিডির সমীক্ষা অনুযায়ী পোশাক কারখানার ছাদে ১৭৬৮ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব যার জন্য প্রায় ২২০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ লাগবে। বিজিএমইএ-এর স্ট্যান্ডিং কমিটি অন এনার্জি অপটিমাইজেশন বিভাগের চেয়ারম্যান নিশাত নাহরিন হামিদ জানান যে ছোট-বड़ा ৪৫৩টি ফ্যাক্টরি সোলার রুফটপ স্থাপনে আগ্রহী হলেও তাদের প্রধান সমস্যা হলো অর্থায়ন জটিলতা। ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুতের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে শুল্ক দূর করা, সুদমুক্ত ঋণ এবং সরকারের প্রণোদনা আরও আকর্ষণীয় করা প্রয়োজন। হাসান মেহেদী লক্ষ্য পূরণের জন্য পাবলিকের জন্য পাঁচ শতাংশের নিচে কম সুদে লোন, প্রিফাইনান্সিং ব্যবস্থা এবং স্পেশাল ফান্ড রাখার মতো পাঁচটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। এছাড়া ছাদ ছাড়াও ভূমিভিত্তিক প্রকল্প থেকে সাড়ে চার হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ও পিপিপি পদ্ধতির পরিকল্পনা রয়েছে। মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন যে স্থানীয় ব্যাংকগুলোর সেই সক্ষমতা না থাকায় এই বিশাল লক্ষ্য বাস্তবায়নে অন্তত সাত বিলিয়ন ডলার বিদেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন। বিনিয়োগের নিশ্চয়তায় ঘাটতি, আস্থার সংকট এবং দক্ষ জনবলের অভাবের পাশাপাশি ৩ হাজার মেগাওয়াটের বেশি প্রকল্প বাতিল হওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা বর্তমানে একটি বড় চ্যালেঞ্জ।


BD-24.COM | Latest Bangladesh & World News

সম্পাদক ও প্রকাশক
মিরাজ হোসেন সুজন
দুবাই প্রবাসী সাংবাদিক ও আইটি বিশেষজ্ঞ

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশেষ গুরুত্ব সরকারের
0:00 / 0:00
1x
🔒