উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
বিদ্যমান নেট এনার্জি মিটারিং পদ্ধতিতে বিতরণ সংস্থাগুলো সৌর বিদ্যুতের হিসাব রাখবে এবং তিন মাস অন্তর প্রণোদনার অর্থ প্রদান করা হবে। বিদ্যুৎ বিভাগের নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র অনুযায়ী, ছাদে ৫৫০০ মেগাওয়াট এবং ভূমিভিত্তিক ৪০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। তবে সরকারি-বেসরকারি আবাসিক ও শিল্প খাতের ভবনের ছাদ ব্যবহার করে এই বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। শিল্প কারখানা এবং ঢাকার আবাসিক ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল বসিয়ে পুরো চাহিদা পূরণ সম্ভব নয় বলে মনে করছেন তারা। নিজস্ব চাহিদা পূরণ করা যেখানে সম্ভব নয়, সেখানে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বিক্রি করা নিয়ে বড় সংশয় রয়েছে। এছাড়া চাহিদার অতিরিক্ত উৎপাদন করতে বিনিয়োগ এবং তিন বছর মেয়াদি কেনার ঘোষণাটি খুব একটা আকর্ষণীয় নয় বলে সমালোচনা রয়েছে। বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে নতুন ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েছে, যেখানে ছাদভিত্তিক উৎপাদনে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ জানান যে এখনো অনেক বিষয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে যা পরিষ্কার করা দরকার। ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিদ্যুৎ কেনার কথা বলা হলেও এই বিক্রি আসলে কে করবে এবং স্যান্ডশন লোডের বাইরে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ কোথায় পাওয়া যাবে তা স্পষ্ট নয়। ছাদে প্রতি কিলোওয়াট সৌর বিদ্যুতের জন্য ৭০ বর্গফুট জায়গার প্রয়োজন হওয়ায় ঢাকা শহরের মতো এলাকায় এটি কতটা সফল হবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। একটি বহুতল আবাসিক ভবনে অনেক ফ্ল্যাটমালিক থাকায় রুফটপ ব্যবহার করে লাভবান হওয়া অসম্ভব এবং ব্যাটারিসহ বিনিয়োগ করলে কোনো প্রফিট থাকে না। সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে এককালীন বিনিয়োগই প্রধান খরচ এবং বর্তমান বাজারে কিলোওয়াট প্রতি ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করতে হয়। তিন কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার প্ল্যান্ট বসাতে দেড় থেকে পৌনে দুই লাখ টাকা খরচ হতে পারে এবং ব্যাটারি স্টোরেজ নিলে খরচ প্রায় তিন লাখ টাকায় পৌঁছায়। কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভাইরমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্কের প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী বলেন যে আবাসিক গ্রাহকদের উৎসাহিত করলে দিনের বিদ্যুতের বড় অংশ সাশ্রয় হবে। তবে ব্যাটারি স্টোরেজের বাধ্যবাধকতা থাকায় ওভারঅল খরচ বেড়ে যাবে এবং নেট বিলিংয়ের পরিবর্তে ফিড ইন ট্যারিফে যাওয়া উচিত ছিল। সরকারের সাড়ে ১০ টাকা দরে সোলার বিদ্যুৎ কেনার ঘোষণা থাকলেও গ্রাহককে গ্রিডের বিদ্যুৎ বেশি দামে কিনতে হলে ছোট বিনিয়োগকারীরা লাভবান হবেন না। ব্যাংক লোন নিয়ে বিনিয়োগ করলে উৎপাদন খরচ ১৩ থেকে ১৪ টাকায় চলে যাবে, ফলে সাড়ে ১০ টাকায় বিক্রি করা ছোট পরিবারের জন্য লাভজনক নয়। পোশাক খাতে একদিকে বিদ্যুৎ সংকট এবং অন্যদিকে ২০৩০ সালের মধ্যে ক্রেতাদের শর্ত অনুযায়ী নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সিপিডির সমীক্ষা অনুযায়ী পোশাক কারখানার ছাদে ১৭৬৮ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব যার জন্য প্রায় ২২০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ লাগবে। বিজিএমইএ-এর স্ট্যান্ডিং কমিটি অন এনার্জি অপটিমাইজেশন বিভাগের চেয়ারম্যান নিশাত নাহরিন হামিদ জানান যে ছোট-বड़ा ৪৫৩টি ফ্যাক্টরি সোলার রুফটপ স্থাপনে আগ্রহী হলেও তাদের প্রধান সমস্যা হলো অর্থায়ন জটিলতা। ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুতের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে শুল্ক দূর করা, সুদমুক্ত ঋণ এবং সরকারের প্রণোদনা আরও আকর্ষণীয় করা প্রয়োজন। হাসান মেহেদী লক্ষ্য পূরণের জন্য পাবলিকের জন্য পাঁচ শতাংশের নিচে কম সুদে লোন, প্রিফাইনান্সিং ব্যবস্থা এবং স্পেশাল ফান্ড রাখার মতো পাঁচটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। এছাড়া ছাদ ছাড়াও ভূমিভিত্তিক প্রকল্প থেকে সাড়ে চার হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ও পিপিপি পদ্ধতির পরিকল্পনা রয়েছে। মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন যে স্থানীয় ব্যাংকগুলোর সেই সক্ষমতা না থাকায় এই বিশাল লক্ষ্য বাস্তবায়নে অন্তত সাত বিলিয়ন ডলার বিদেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন। বিনিয়োগের নিশ্চয়তায় ঘাটতি, আস্থার সংকট এবং দক্ষ জনবলের অভাবের পাশাপাশি ৩ হাজার মেগাওয়াটের বেশি প্রকল্প বাতিল হওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা বর্তমানে একটি বড় চ্যালেঞ্জ।