দুবাই সংযুক্ত আরব আমিরাত     বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
LIVE
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ENGLISH

নিরাময়কেন্দ্র যখন নির্যাতনশালা


মিরাজ হোসেন
সম্পাদক ও প্রকাশক, ৭ ফলোয়ার
প্রকাশিত: ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫৩ এএম

নিরাময়কেন্দ্র যখন নির্যাতনশালা

প্রিন্ট: ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২০ এএম

চিকিৎসার নামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করা জরুরি

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

আরও পড়ুন

মাদকাসক্তি কোনো অপরাধ নয়, এটি একটি ব্যাধি। একজন ব্যাধিগ্রস্ত মানুষকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনার শেষ ভরসাস্থল হওয়ার কথা মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রগুলো। তবে গতকাল যুগান্তরের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে যে ভয়াবহ ও চাঞ্চল্যকর চিত্র উঠে এসেছে, তা দেখে স্তম্ভিত না হয়ে উপায় নেই। নিরাময়কেন্দ্রের নাম ভাঙিয়ে রাজধানীসহ দেশজুড়ে গড়ে উঠেছে পাঁচ শতাধিক বাণিজ্যকেন্দ্র, যেগুলোর বেশির ভাগই সাইনবোর্ডসর্বস্ব ও অবৈধ। সেবা দেওয়ার নামে সেখানে চলছে নির্যাতন, অর্থ লুটপাট, এমনকি মাদক ব্যবসাও! মানবিক চিকিৎসার পরিবর্তে এসব প্রতিষ্ঠান রূপ নিয়েছে একেকটি নির্যাতনকেন্দ্রে। এদের এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করা জরুরি।

প্রতিবেদনে উঠে আসা রাজধানীর অভিজাত এলাকার ‘বীকন পয়েন্ট’-এর চিত্রটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি দেশের অধিকাংশ বেসরকারি নিরাময়কেন্দ্রের সার্বিক নৈরাজ্যেরই একটি উদাহরণ। কোনোরকম চিকিৎসাগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই রোগী ভর্তি করা, নামহীন ওষুধ খাইয়ে অবচেতনে রাখা, স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে অমানবিক বদ্ধ পরিবেশে আটকে রাখা এবং মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া-এ যেন সেবার নামে প্রকাশ্য প্রতারণা। আরও ভয়াবহ তথ্য হলো, ‘ক্যাচিং পার্টি’ নামের বিশেষ দল ভাড়া করে পারিবারিক বা সম্পত্তিগত বিরোধের জেরে সুস্থ মানুষকেও মাদকাসক্ত বানিয়ে আটকে রাখা হচ্ছে। অর্থাৎ, টাকার বিনিময়ে যে কাউকেই এই গোপন কারাগারে বন্দি করা সম্ভব হচ্ছে। চিকিৎসার এমন বিকৃতি ও ভয়াবহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কোনো সভ্য সমাজে চলতে পারে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদকাসক্তি নিরাময়ে প্রয়োজন সঠিক ওষুধ, মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন এবং বৈজ্ঞানিক কাউন্সেলিং। বন্দিত্ব বা শারীরিক নির্যাতন কখনো চিকিৎসার অংশ হতে পারে না; বরং এতে রোগী মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে আরও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিশেষ করে দেশে ইয়াবা ও আইসের মতো ভয়াবহ মাদকের বিস্তারে কিশোর ও তরুণরা যখন হৃদরোগ ও মানসিক বৈকল্যের মতো মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে, তখন নিরাময়কেন্দ্রগুলোর এমন অপচিকিৎসা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাচ্ছে।

আমাদের রাষ্ট্রীয় নীতিতে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’-এর কথা বলা হলেও বাস্তবে এ ক্ষেত্রে তদারকির অভাব স্পষ্ট। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির শিথিলতার কারণেই এসব প্রতিষ্ঠান দিনদিন ‘টাকার মেশিন’ ও অপরাধচক্রে পরিণত হয়েছে। নিরাময়কেন্দ্র পরিচালনা করার জন্য যে নির্দিষ্ট নিয়মকানুন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের উপস্থিতি এবং মানবিক পরিবেশের বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কীভাবে তারা বছরের পর বছর ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে, তার জবাব কর্তৃপক্ষকে দিতে হবে।

দেশজুড়ে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা এ ধরনের নামসর্বস্ব ও অবৈধ নিরাময়কেন্দ্রে অবিলম্বে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা দরকার। যেসব কেন্দ্রে অপচিকিৎসা, নির্যাতন ও প্রতারণার প্রমাণ মিলছে, তাদের লাইসেন্স বাতিল করে জড়িতদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি পর্যায়ে আধুনিক নিরাময়কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো এবং বৈধ বেসরকারি কেন্দ্রগুলোয় নিয়মিত সারপ্রাইজ অডিট নিশ্চিত করা জরুরি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্বাস্থ্য বিভাগ ও সুশীল সমাজের সমন্বিত পদক্ষেপ ছাড়া মাদকের এই গ্রাস ও নিরাময়কেন্দ্রগুলোর নৈরাজ্য বন্ধ করা সম্ভব নয়। সেবার নামে গড়ে ওঠা এই গোপন কারাগারগুলোর অস্তিত্ব চিরতরে মুছে ফেলা হোক।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: /৫ ( ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

নড়াইলে ৩ টি প্লাস্টিক বোতলে ১ গাছের চারা, পরিবেশ রক্ষায় চলো পাল্টাই বাংলাদেশের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

নড়াইলে ৩ টি প্লাস্টিক বোতলে ১ গাছের চারা, পরিবেশ রক্ষায় চলো পাল্টাই বাংলাদেশের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

তানযীমুল উম্মাহ আলিম মাদরাসায় ‘দ্রোহের জুলাই’ পালিত

তানযীমুল উম্মাহ আলিম মাদরাসায় ‘দ্রোহের জুলাই’ পালিত

পঞ্চগড় জেলা প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি সভাপতি রাসেদুজ্জামান রাসেদ সাধারণ সম্পাদক ডিজার হোসেন বাদশা

পঞ্চগড় জেলা প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি সভাপতি রাসেদুজ্জামান রাসেদ সাধারণ সম্পাদক ডিজার হোসেন বাদশা

সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবাসীদের সংকট নিরসন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ সিআইপি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন, দুবাই-এর প্রতিনিধিদের সাথে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর মতবিনিময়

সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবাসীদের সংকট নিরসন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ সিআইপি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন, দুবাই-এর প্রতিনিধিদের সাথে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর মতবিনিময়

তেঁতুলিয়ায় ১০০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

তেঁতুলিয়ায় ১০০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

নড়াইলে স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে ‘চলো পাল্টাই বাংলাদেশ’-এর উঠান বৈঠক

নড়াইলে স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে ‘চলো পাল্টাই বাংলাদেশ’-এর উঠান বৈঠক

তেঁতুলিয়া প্রেস ক্লাবের ৩ বছর পর নতুন কমিটি গঠন

তেঁতুলিয়া প্রেস ক্লাবের ৩ বছর পর নতুন কমিটি গঠন

নওগাঁয় পানিতে ডুবে শিক্ষকের মৃত্যু

নওগাঁয় পানিতে ডুবে শিক্ষকের মৃত্যু

মানিকগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান

মানিকগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান

নওগাঁয়  নিজ মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার

নওগাঁয় নিজ মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার

জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে বিজিএমইএর মতবিনিময়

জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে বিজিএমইএর মতবিনিময়

গুম হওয়া আলামিনের মা ও শহীদ জুবায়েরের বোনের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

গুম হওয়া আলামিনের মা ও শহীদ জুবায়েরের বোনের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে পাশে থাকবে ওআইসি

রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে পাশে থাকবে ওআইসি

বনশ্রীতে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে স্কুলশিক্ষিকা নিহত

বনশ্রীতে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে স্কুলশিক্ষিকা নিহত

ফসলে কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপে গুরুত্বারোপ: Daily Naya Diganta (দৈনিক নয়া দিগন্ত)

ফসলে কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপে গুরুত্বারোপ: Daily Naya Diganta (দৈনিক নয়া দিগন্ত)

স্থানীয় নির্বাচন বিলম্বিত করার প্রবণতা দেখছে জামায়াত

স্থানীয় নির্বাচন বিলম্বিত করার প্রবণতা দেখছে জামায়াত

হাজারীবাগে ড্যাফোডিল শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

হাজারীবাগে ড্যাফোডিল শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

সম্পত্তি হস্তান্তর বিল: আইনমন্ত্রীর সঙ্গে তরুণ আলেমদের বৈঠক

সম্পত্তি হস্তান্তর বিল: আইনমন্ত্রীর সঙ্গে তরুণ আলেমদের বৈঠক

ধানমন্ডি লেক ও সাত মসজিদ রোডে ডিএসসিসির উচ্ছেদ অভিযান

ধানমন্ডি লেক ও সাত মসজিদ রোডে ডিএসসিসির উচ্ছেদ অভিযান

কাউকে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধ্য করা হবে না: ছাত্রদল সভাপতি

কাউকে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধ্য করা হবে না: ছাত্রদল সভাপতি

BD-24.COM | Latest Bangladesh & World News

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নিরাময়কেন্দ্র যখন নির্যাতনশালা

প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

প্রিন্ট: ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২০ এএম

চিকিৎসার নামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করা জরুরি

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

আরও পড়ুন

মাদকাসক্তি কোনো অপরাধ নয়, এটি একটি ব্যাধি। একজন ব্যাধিগ্রস্ত মানুষকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনার শেষ ভরসাস্থল হওয়ার কথা মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রগুলো। তবে গতকাল যুগান্তরের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে যে ভয়াবহ ও চাঞ্চল্যকর চিত্র উঠে এসেছে, তা দেখে স্তম্ভিত না হয়ে উপায় নেই। নিরাময়কেন্দ্রের নাম ভাঙিয়ে রাজধানীসহ দেশজুড়ে গড়ে উঠেছে পাঁচ শতাধিক বাণিজ্যকেন্দ্র, যেগুলোর বেশির ভাগই সাইনবোর্ডসর্বস্ব ও অবৈধ। সেবা দেওয়ার নামে সেখানে চলছে নির্যাতন, অর্থ লুটপাট, এমনকি মাদক ব্যবসাও! মানবিক চিকিৎসার পরিবর্তে এসব প্রতিষ্ঠান রূপ নিয়েছে একেকটি নির্যাতনকেন্দ্রে। এদের এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করা জরুরি।

প্রতিবেদনে উঠে আসা রাজধানীর অভিজাত এলাকার ‘বীকন পয়েন্ট’-এর চিত্রটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি দেশের অধিকাংশ বেসরকারি নিরাময়কেন্দ্রের সার্বিক নৈরাজ্যেরই একটি উদাহরণ। কোনোরকম চিকিৎসাগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই রোগী ভর্তি করা, নামহীন ওষুধ খাইয়ে অবচেতনে রাখা, স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে অমানবিক বদ্ধ পরিবেশে আটকে রাখা এবং মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া-এ যেন সেবার নামে প্রকাশ্য প্রতারণা। আরও ভয়াবহ তথ্য হলো, ‘ক্যাচিং পার্টি’ নামের বিশেষ দল ভাড়া করে পারিবারিক বা সম্পত্তিগত বিরোধের জেরে সুস্থ মানুষকেও মাদকাসক্ত বানিয়ে আটকে রাখা হচ্ছে। অর্থাৎ, টাকার বিনিময়ে যে কাউকেই এই গোপন কারাগারে বন্দি করা সম্ভব হচ্ছে। চিকিৎসার এমন বিকৃতি ও ভয়াবহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কোনো সভ্য সমাজে চলতে পারে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদকাসক্তি নিরাময়ে প্রয়োজন সঠিক ওষুধ, মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন এবং বৈজ্ঞানিক কাউন্সেলিং। বন্দিত্ব বা শারীরিক নির্যাতন কখনো চিকিৎসার অংশ হতে পারে না; বরং এতে রোগী মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে আরও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিশেষ করে দেশে ইয়াবা ও আইসের মতো ভয়াবহ মাদকের বিস্তারে কিশোর ও তরুণরা যখন হৃদরোগ ও মানসিক বৈকল্যের মতো মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে, তখন নিরাময়কেন্দ্রগুলোর এমন অপচিকিৎসা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাচ্ছে।

আমাদের রাষ্ট্রীয় নীতিতে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’-এর কথা বলা হলেও বাস্তবে এ ক্ষেত্রে তদারকির অভাব স্পষ্ট। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির শিথিলতার কারণেই এসব প্রতিষ্ঠান দিনদিন ‘টাকার মেশিন’ ও অপরাধচক্রে পরিণত হয়েছে। নিরাময়কেন্দ্র পরিচালনা করার জন্য যে নির্দিষ্ট নিয়মকানুন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের উপস্থিতি এবং মানবিক পরিবেশের বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কীভাবে তারা বছরের পর বছর ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে, তার জবাব কর্তৃপক্ষকে দিতে হবে।

দেশজুড়ে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা এ ধরনের নামসর্বস্ব ও অবৈধ নিরাময়কেন্দ্রে অবিলম্বে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা দরকার। যেসব কেন্দ্রে অপচিকিৎসা, নির্যাতন ও প্রতারণার প্রমাণ মিলছে, তাদের লাইসেন্স বাতিল করে জড়িতদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি পর্যায়ে আধুনিক নিরাময়কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো এবং বৈধ বেসরকারি কেন্দ্রগুলোয় নিয়মিত সারপ্রাইজ অডিট নিশ্চিত করা জরুরি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্বাস্থ্য বিভাগ ও সুশীল সমাজের সমন্বিত পদক্ষেপ ছাড়া মাদকের এই গ্রাস ও নিরাময়কেন্দ্রগুলোর নৈরাজ্য বন্ধ করা সম্ভব নয়। সেবার নামে গড়ে ওঠা এই গোপন কারাগারগুলোর অস্তিত্ব চিরতরে মুছে ফেলা হোক।


BD-24.COM | Latest Bangladesh & World News

সম্পাদক ও প্রকাশক
মিরাজ হোসেন সুজন
দুবাই প্রবাসী সাংবাদিক ও আইটি বিশেষজ্ঞ

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
নিরাময়কেন্দ্র যখন নির্যাতনশালা
0:00 / 0:00
1x
🔒