দুবাই সংযুক্ত আরব আমিরাত     রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
LIVE
রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
ENGLISH

ইতিহাসের কথা

ভাষাশহীদ রফিকের জন্মশতবার্ষিকীতে নেই রাষ্ট্রীয় আয়োজন

ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ রফিক উদ্দিন আহমেদের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো আয়োজন করা হয়নি। তবে তাঁর জন্মভূমি মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার রফিকনগরে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে শততম জন্মবার্ষিকী। এ উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী মেলা, কেক কাটা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের রফিকনগরে শহীদ রফিক মঞ্চে ভাষাশহীদ রফিক স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে জন্মশতবার্ষিকীর মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা। তিনি শহীদ রফিকের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে জন্মশতবার্ষিকীর কেক কাটেন।ভাষাশহীদ রফিকের ছোট ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. খোরশেদ আলমের সভাপতিত্বে এবং প্রভাষক জগদীশ চন্দ্র মালোর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহরম আলী, সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুন্নাহার পপি, সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আল আমিন কবির, একুশে পদকপ্রাপ্ত কাওসার চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা মফতেজুর রহমান, শহীদ রফিকের ভাতিজা আবদুর রউফসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, শহীদ রফিকের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পরে সন্ধ্যায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গত ২৮ অক্টোবর শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী এ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গতকাল শুক্রবার জন্মশতবার্ষিকীর আয়োজন শেষ হয়।তবে ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কোনো বিশেষ কর্মসূচি না থাকায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। স্থানীয় পর্যায়ে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপিত হলেও জাতীয় ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এই ভাষাশহীদের শততম জন্মবার্ষিকীতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।১৯২৬ সালের ৩০ অক্টোবর তৎকালীন ঢাকা জেলার মানিকগঞ্জ মহকুমার সিংগাইর উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের পারিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন রফিক উদ্দিন আহমেদ। তাঁর বাবা আবদুল লতিফ এবং মা রাফিজা খাতুন। পাঁচ ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়।শিক্ষাজীবনে রফিক স্থানীয় বায়রা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৪৯ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। পরে মানিকগঞ্জের দেবেন্দ্র কলেজে ভর্তি হন। পরবর্তী সময়ে ঢাকায় গিয়ে তৎকালীন জগন্নাথ কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করেন। ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অংশ নেওয়ার সময় তিনি ছিলেন তরুণ শিক্ষার্থী।১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকায় ছাত্র-জনতার মিছিলে অংশ নেন রফিক। সেদিন ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিল ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে পৌঁছালে পুলিশ গুলি চালায়। পুলিশের গুলি তাঁর মাথায় লাগলে ঘটনাস্থলেই শহীদ হন তিনি। ভাষার জন্য আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন রফিক উদ্দিন আহমেদ।ভাষা আন্দোলনে শহীদ হওয়ার সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র ২৫ বছর। তাঁর আত্মত্যাগের স্মৃতি ধারণ করে জন্মস্থান পারিল গ্রামের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে রফিকনগর। সেখানে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ভাষাশহীদ রফিক উদ্দিন আহমদ স্মৃতি পাঠাগার ও জাদুঘর। ভাষা আন্দোলনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০০ সালে তাঁকে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।ভাষাশহীদ রফিকের আত্মত্যাগ শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, বরং মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠায় বাঙালির সংগ্রাম ও আত্মদানের অনন্য প্রতীক। তাঁর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান নতুন প্রজন্মের কাছে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা। তবে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কোনো বিশেষ আয়োজন না থাকায় জন্মশতবার্ষিকীর এই গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ যথাযথ জাতীয় স্বীকৃতি পেয়েছে কি না, সে প্রশ্নও সামনে এসেছে।

ভাষাশহীদ রফিকের জন্মশতবার্ষিকীতে নেই রাষ্ট্রীয় আয়োজন
🔒