উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
ঝিনাইদহে তুচ্ছ পারিবারিক বিরোধ ও কলহের জেরে পৃথক দুটি ঘটনায় ছোট ভাইয়ের লাঠির আঘাতে বড় ভাই এবং বড় ভাইয়ের কোদালের আঘাতে ছোট ভাই নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে শৈলকুপা ও সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।
শৈলকুপা উপজেলার ব্রহ্মপুর গ্রামে সুপারি পাড়াকে কেন্দ্র করে ছোট ভাই রবিউল ইসলামের লাঠির আঘাতে বড় ভাই মজিবুল ইসলাম (৪৫) নিহত হন। গ্রামবাসী ও পুলিশ জানায়, শুক্রবার আঙিনার একটি গাছ থেকে বড় ভাই মজিবুল কিছু সুপারি পাড়লে ছোট ভাই রবিউলের সাথে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরে শনিবার বিকেলে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয় পরিবারের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও মারামারি শুরু হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে রবিউল লাঠি দিয়ে বড় ভাই মজিবুলের মাথা ও শরীরে আঘাত করেন। স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে মজিবুলের স্ত্রী ও ছেলেও রক্তাক্ত হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় মজিবুলকে উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পর অভিযুক্ত রবিউল গা-ঢাকা দিলেও গ্রামবাসী তাঁর স্ত্রী মিলি খাতুনকে আটকে রেখে পুলিশে সোপর্দ করে। শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবীর মোল্লা জানান, নিহতের মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং প্রধান আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
অন্যদিকে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাগান্না ইউনিয়নের বকশিপুর-চাঁদপুর গ্রামে শনিবার রাতে পারিবারিক কলহের জেরে বড় ভাই সুমন মন্ডলের (৩০) কোদালের আঘাতে ছোট ভাই সোহান মন্ডল (২৬) খুন হয়েছেন। পুলিশ ও নিহতের পরিবার জানায়, বিকেলে সুমনের সাথে সোহানের স্ত্রীর ঝগড়া হয়। পরে সন্ধ্যা রাতে এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হলে একপর্যায়ে সুমন পাশে থাকা কোদাল দিয়ে সোহানের মাথায় সজোরে আঘাত করে পালিয়ে যান।
গুরুতর আহত সোহানকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ হুমায়রা হুমা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান জানান, পারিবারিক বিরোধে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং অভিযুক্ত সুমনকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।