উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার হিঙ্গারপাড়া এলাকার তিনটি কবরস্থান প্রাঙ্গণে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে ২৩০টি ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) জুমার নামাজ শেষে হিঙ্গারপাড়া কেন্দ্রীয় পুরাতন জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে একটি বয়ড়া গাছের চারা রোপণের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
‘পবিত্র প্রাঙ্গণ হোক সবুজ-সুশোভিত, প্রকৃতি হোক নির্মল’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে হিঙ্গারপাড়া শান্তিনিকেতন পাবলিক কবরস্থান, হিঙ্গারপাড়া জামে মসজিদসংলগ্ন কবরস্থান এবং হিঙ্গারপাড়া মালিতাপাড়া কবরস্থান প্রাঙ্গণে এসব চারা রোপণ করা হয়।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক নিবন্ধিত সামাজিক সংগঠন হিউম্যানিটারিয়ান ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন এবং মোঃ হামিদ পারভেজ মিয়া কল্যাণ ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগ ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় কর্মসূচিটি বাস্তবায়িত হয়। এর উদ্দেশ্য কবরস্থানগুলোর পরিবেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধি, সবুজায়ন সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে অবদান রাখা।
কর্মসূচির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক মোঃ হামিদ পারভেজ মিয়া বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান প্রেক্ষাপটে পরিবেশ রক্ষা ও প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখা আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব। কবরস্থানের মতো পবিত্র স্থানগুলো সবুজে সুশোভিত করার মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব। এসব গাছ বড় হলে পাখিসহ বিভিন্ন প্রাণীর আশ্রয়স্থল হিসেবেও ভূমিকা রাখবে।”
তিনি আরও বলেন, “শুধু চারা রোপণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। চারাগুলোকে নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে বাঁচিয়ে রেখে বড় করে তোলাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয় জনগণ, সামাজিক সংগঠন ও তরুণ প্রজন্মকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।”
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সমাজসেবক, তিনটি কবরস্থানের পরিচালনা কমিটির সভাপতিবৃন্দ এবং মসজিদের মুসল্লিরা উপস্থিত থেকে চারা রোপণে অংশ নেন। তাঁরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং পরিবেশ সংরক্ষণে এ ধরনের সামাজিক কার্যক্রম নিয়মিত আয়োজনের আহ্বান জানান।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কবরস্থানগুলো সীমানাপ্রাচীর দিয়ে ঘেরা থাকায় গবাদিপশুর হাত থেকে চারাগুলো রক্ষা করার ক্ষেত্রে সুবিধা হবে। পাশাপাশি চারার সঠিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে নিয়মিত পানি দেওয়া, প্রয়োজনীয় সার প্রয়োগ ও সার্বিক পরিচর্যার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় পর্যায়ে সবুজায়ন সম্প্রসারণের পাশাপাশি পরিবেশ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা নিয়ে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।