উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
এশিয়া ফাউন্ডেশনের ২০২৪ সালের জাতীয় জরিপে মাত্র ২০ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা পুলিশকে উচ্চ সততার প্রতিষ্ঠান বলেছেন। বিচার বিভাগের ক্ষেত্রে এ হার ছিল ৩৮ দশমিক ২ শতাংশ, যা ২০২২ সালে ছিল ৪৪ দশমিক ৫ শতাংশ। বিচারব্যবস্থা নিয়ে এমন উদ্বেগজনক চিত্র নাগরিকের আস্থায় বড় ধরনের ফাটল ধরাচ্ছে। অপরাধের সঠিক বিচার না পেলে মানুষ শুধু আদালত নয়, পুলিশ ও রাষ্ট্রের প্রতিও আস্থা হারাতে শুরু করে।
কুমিল্লায় ১৩ বছরের অপ্রতীম হত্যা মামলায় মা নাহিদা বেগমের হতাশা কিংবা পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যার পর বাবার কান্না নাগরিকদের আস্থাহীনতারই বহিঃপ্রকাশ। সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার ১৪ বছর পরও তদন্ত শেষ হয়নি এবং প্রতিবেদন জমার সময়সীমা ১২৫ বার বাড়ানো হয়েছে। সোহাগী জাহান তনু হত্যার দশ বছর পার হলেও ৭৮টি শুনানির পরও বিচার এগোয়নি।
২০২৬ সালের সুপ্রিম কোর্ট ও ব্র্যাকের যৌথ গবেষণায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় দণ্ডের হার মাত্র ৩ শতাংশ এবং ৭০ শতাংশ খালাসের তথ্য এসেছে। ২০১০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৩ হাজার ৮৭৬টি মৃত্যুদণ্ডের রায় হলেও কার্যকর হয়েছে মাত্র ৪৭টি। অন্যদিকে এই ১৫ বছরে প্রায় ৫০ হাজার খুন হয়েছে, যা বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা ও আস্থার সংকটকে আরও প্রকট করে তোলে।
বিচারের দীর্ঘসূত্রতা ও দুর্বল তদন্তের কারণে মানুষের মনে আইনি কাঠামোর কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। এর ফলে কেউ কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়াকে ন্যায্য ভাবতে শুরু করে যা রাষ্ট্রের জন্য ভয়ংকর একপর্যায়। রাষ্ট্রের উচিত দ্রুত ও দৃশ্যমান ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে প্রমাণ করা যে আইন এখনো কার্যকর রয়েছে।