উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
সিলেটের পর্যটনের বিকাশে সবচেয়ে বড় অন্তরায় দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে ৬ লেনের কাজ চলায় তৈরি হওয়া বেহাল দশা। ট্রেনের পর্যাপ্ত বগি না থাকা এবং আকাশপথে বিমান ভাড়া দুই থেকে তিন গুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ যাত্রীরা চরম টিকেট সংকট ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। আগামী পহেলা অক্টোবর থেকে ৩১শে অক্টোবর পর্যন্ত এক মাস যাত্রীসাধারণের টিকেট সংকট কমাতে ট্রেনের সাথে আরও দুই-তিনটি বগি লাগানোর চিন্তা করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং, বিছনাকান্দি, মায়াবী ঝর্ণা, লালাখাল, এবং হযরত শাহজালাল ও শাহপরান এর মাজারসহ চা বাগান এলাকায় অব্যবস্থাপনা পর্যটন ক্ষেত্রে ব্যাপক সর্বনাশ ডেকে আনছে। রাস্তাঘাটের বড় বড় গর্ত, মাজারগুলোতে নেশাখোরদের আনাগোনা এবং চা বাগানগুলোতে ছিনতাইয়ের কবলে পড়ে পর্যটক পরিবারগুলো চরম বিপাকে পড়ছে। সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন যে পর্যটন মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাথে সমন্বয় করে জেলা প্রশাসন কাজ করছে এবং অচিরেই আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ঘটানো হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে শুধু লোক দেখানো বক্তব্য না দিয়ে সিলেটের পর্যটন শিল্পের বিকাশে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে এবং এখনই প্রকৃতি রক্ষায় উদ্যোগী হতে হবে। ইসিএভুক্ত জাফলংয়ে বালু-পাথর লুট, দখল ও অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণের কারণে এক দুঃসময় পার করছে। সাদাপাথরে বালু-পাথর লুটের কারণে ধলাই নদী তার স্বাভাবিক গতিপথ হারিয়ে ফেলছে এবং জল-পাথরের বিছানাকান্দি এখন মৃতপ্রায় একটি পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
সিলেটের রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট, লালাখাল, পান্তুমাই এবং চা-বাগানগুলো অপার সম্ভাবনাময় হলেও নির্বিচারে বালু-পাথর লুট, পাহাড় কাটা ও প্লাস্টিক-বর্জ্য ফেলার কারণে হুমকিতে রয়েছে। নৌযানের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং শব্দদূষণের কারণে দেশের একমাত্র মিঠাপানির জলাবন রাতারগুলের জীববৈচিত্র্যও মারাত্মক বিপদের মুখে পড়েছে। প্রকৃতি, ইতিহাস, ধর্ম ও সংস্কৃতিকে ঘিরে সিলেটে অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও কার্যকর উদ্যোগের অভাবে সিলেটের পর্যটন আজ ধ্বংসের পথে।