উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাত, দুঃখ-বেদনা ও দুশ্চিন্তা মানুষের নির্জন রাতকে অনেক সময় দুর্বিষহ করে তোলে। গভীর রাতে যখন চারপাশ নীরব হয়ে যায়, তখন মনের মধ্যে নানা স্মৃতি ও অপ্রাপ্তি ভিড় করলে ঘুম হারিয়ে যায়। এমন যন্ত্রণাকাতর সময়ে মহান আল্লাহর দরবারে সিজদানত হয়ে নামাজ আদায় করাই একজন মুমিনের জন্য শ্রেষ্ঠ আশ্রয় ও উপশম হতে পারে।
নামাজ মূলত দুর্দিনের বড় আশ্রয়। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৫৩)। পাশাপাশি নামাজ মনের অস্থিরতা ও মানসিক চাপ দূর করে। হুজাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, যখন কোনো বিষয় রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে চিন্তিত করত, তখন তিনি নামাজ পড়তেন। (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ১৩১৯)।
গভীর রাতের দুর্ভাবনা দূর করে হৃদয়ে প্রশান্তি ফিরিয়ে আনে নামাজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলতেন, ‘হে বেলাল! নামাজের জন্য ইকামত দাও। এর মাধ্যমে আমাদের প্রশান্তি দাও।’ (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ৪৯৮৫)। এছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও উল্লেখ করেছেন, ‘নামাজেই আমার চোখের প্রশান্তি রাখা হয়েছে।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ৩৯৩৯)। বান্দার প্রেমপূর্ণ আত্মসমর্পণ দুনিয়ার সব কষ্ট ভুলিয়ে দেয়।
পার্থিব জীবনের মোহ ও মায়াজনিত হৃদয়ের ব্যথা উপশম হয় সিজদায় আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যমে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বান্দা সিজদায় আল্লাহর সবচেয়ে বেশি নিকটবর্তী হয়। সুতরাং তোমরা তাতে অধিক পরিমাণ দোয়া কোরো।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৪৮২)। তাই বিশ্বাসী মানুষের উচিত রাতের নির্জনতায় নফল নামাজের সিজদায় পড়ে আল্লাহর কাছে দোয়া ও প্রার্থনা করা।
নামাজ মানুষের অন্তর থেকে সব হতাশা দূর করে এবং মনকে হালকা করে দেয়। পবিত্র কোরআনের সুরা মাআরিজের ১৯-২২ আয়াত এবং সুরা হিজরের ৯৭-৯৮ আয়াতে সিজদা ও নামাজের মাধ্যমে অন্তরের সংকোচন দূর করার দিকনির্দেশনা রয়েছে। তবে নামাজ তখনই প্রকৃত আরোগ্য হয়, যখন বান্দার অন্তরে আল্লাহর প্রতি গভীর বিশ্বাস ও বিনম্রতা থাকে, যা সুরা বাকারার ৪৫ নম্বর আয়াতেও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।