উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
প্রতি বছর হিজরি রবিউস সানি মাসের ১১ তারিখে বিশ্বব্যাপী মুসলিম উম্মাহ অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও শ্রদ্ধার সঙ্গে পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম পালন করে। ফারসি ও আরবি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত এই নামের 'ফাতেহা' অর্থ দোয়া এবং 'ইয়াজদাহম' অর্থ এগারো। হিজরি ৫৬১ সনের ১১ রবিউস সানি ৯১ বছর বয়সে ইরাকের বাগদাদে ইন্তেকাল করেন মহান অলী হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.)।
তিনি ৪৭১ হিজরিতে পারস্যের জিলান নগরে জন্মগ্রহণ করেন এবং তাঁর বংশলতিকা সরাসরি নবী করীম (সা.)-এর নসবনামার সঙ্গে মিলিত হয়েছে। ভঙ্গুর রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিস্থিতিতে তিনি জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দিয়ে মৃতপ্রায় সমাজ পুনরুজ্জীবিত করায় তাঁকে 'মহিউদ্দিন' বা দ্বীনের জীবনদানকারী উপাধিতে ভূষিত করা হয়। তাঁর প্রতিষ্ঠিত কাদেরিয়া তরিকা আজ পৃথিবীর আনাচে-কানাচে কোটি কোটি মানুষের আত্মিক তৃষ্ণা নিবারণ করছে।
শৈশবে বাগদাদ যাওয়ার সময় তাঁর মা জামার আস্তিনের নিচে ৪০টি স্বর্ণমুদ্রা সেলাই করে দিয়ে অসিয়ত করেছিলেন যেন জীবন গেলেও মিথ্যা না বলেন। পথিমধ্যে ডাকাতের কবলে পড়ে তিনি অকপটে সত্য কথাটি বলে দেন এবং তাঁর এই সত্যনিষ্ঠা দেখে ডাকাত সর্দার দলবলসহ তওবা করে ইসলামের ছায়াতলে ফিরে আসে। তাঁর প্রতিষ্ঠিত মাদরাসায় হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে পাঠদানের পাশাপাশি 'ফুতুহুল গাইব' এবং 'গুনিয়াতুত তালেবীন' এর মতো অমূল্য গ্রন্থ তিনি রেখে গেছেন।
ইসলামে আউলিয়া কেরামের মর্যাদা অত্যন্ত সুউচ্চ এবং পবিত্র কুরআনে তাদের কোনো ভয় ও চিন্তা নেই বলে ঘোষণা করা হয়েছে। ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম কেবল একটি তিথি নয়, এটি বড় পীরের ত্যাগ ও সুন্নাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের এক জীবন্ত স্মারক। বর্তমান সমাজে সুফিবাদের মূল চেতনা শান্তিবাদ, সত্যবাদিতা এবং মানবসেবাকে বুকে ধারণ করাই হোক এই পবিত্র দিবসের মূল শিক্ষা।