উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত হলেও নিজেকে এখনো দলের সংসদ সদস্য দাবি করছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলাম। গত মঙ্গলবার তিনি জানান, খাতা-কলমে তিনি এখনো জামায়াতের সদস্য হিসেবেই আছেন এবং দল কী বলছে তা তিনি জানেন না। তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বহিষ্কারের পর তিনি আর দলের কেউ নন এবং এ বিষয়ে সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশনে চিঠি পাঠানো হয়েছে। দলীয় সূত্র জানায়, নৈতিক স্খলনের প্রমাণ পাওয়ায় গত ২২ জুলাই ৭৫ বছর বয়সী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াত।
সংসদে গাজী নজরুল ইসলামের অবস্থান ও দলীয় পরিচয় নিয়ে ইতিমধ্যে বিভিন্ন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গত ১৮ আগস্ট মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি এবং সরকারি প্রতিশ্রুতি কমিটি থেকেও তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়। জামায়াত নেতারা বলছেন, তাঁকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই এবং তাঁর আসনে বিকল্প প্রার্থী তৈরির কাজও শুরু হয়েছে। এদিকে বহিষ্কারের পর দলে ফেরার জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন গাজী নজরুল ইসলাম। তবে সংবিধান অনুযায়ী শুধু রাজনৈতিক দল থেকে বহিষ্কারের কারণে সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না।
বর্তমানে গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ থাকা না–থাকার বিষয়টি স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তবে জামায়াতের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। এর আগে দশম সংসদে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর ক্ষেত্রেও পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির জানান, সংবিধান অনুযায়ী গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ হারানোর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। ফলে তাঁর সংসদ সদস্য পদের ভবিষ্যৎ এখন স্পিকার ও ইসির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।