উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ঘুস, নিয়োগ বাণিজ্য এবং অর্থ পাচারের নতুন অভিযোগ এনেছে দুদক। ডিএনসিসির নিয়োগ, ডিসি পদায়ন বাণিজ্য, টেন্ডার কমিশন গ্রহণ এবং বিদেশে বিপুল অঙ্কের অর্থ পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্বের পাঁচ দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের কথা বলা হয়েছে এবং অবৈধ প্রক্রিয়ায় নিজ দুই বোন জামাই ও ভাগনিকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। পাচারকৃত অর্থের মধ্যে দুবাইতে সাড়ে চার হাজার কোটি, সিঙ্গাপুরে তিন হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় দুই হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে দেড় হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া পর্তুগালে জমি ক্রয় এবং উত্তর সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে ৬০ কোটি ও ৩৬ ডিসি পদায়নে কোটি কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের সচিব সাইদুর রহমান খান জানিয়েছেন, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মনগড়া নয় এবং পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারের প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দেশে চিঠি পাঠানো হবে। তিনি আরও বলেন, অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী ধাপে যাওয়া হয়েছে এবং তদন্তে যা আসবে সে অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। অন্যদিকে গত রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ১১ হাজার কোটি টাকার এই সংখ্যাটি নিয়ে সরকারের নিজেদের মধ্যে আগে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, পূর্বে যে কারণে দুদক ব্যবহৃত হয়েছিল, ভবিষ্যতে সে কারণেই এটি ব্যবহৃত হবে এবং আওয়ামী লীগের সময়ের দুর্নীতি নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই।
দুদকের অনুসন্ধান জালে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ছাড়াও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলমসহ ডজনখানেক কর্মকর্তার নাম রয়েছে। গত ২ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ-বদলি ও কেনাকাটাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে সাবেক এই উপদেষ্টাসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। এর ধারাবাহিকতায় গত ৩ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে এসব নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র দুদকে এসে পৌঁছেছে। দুদক কর্মকর্তা মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে গঠিত বিশেষ টিম বর্তমানে এই অভিযোগের অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।