উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
পঞ্চগড়ে এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। পরে পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, আসামিদের হুমকি ও মানসিক চাপে ওই কিশোরী কীটনাশক জাতীয় বিষ পান করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গত রোববার রাতে অভিযান চালিয়ে মো. সোহেল (২৫) ও মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে বাঘা মন্টু (২৩) নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা পঞ্চগড় সদর উপজেলার ভিতরগড় এলাকার ঝেচুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী পঞ্চগড় সদর উপজেলার শালমারা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। স্কুলে যাওয়া-আসার পথে সোহেল তাকে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব ও প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে গত ১০ সেপ্টেম্বর রাতে সোহেল ও তার সহযোগীরা কৌশলে ওই স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় এবং বিষয়টি কাউকে না জানাতে হুমকি দেওয়া হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরদিন ১১ সেপ্টেম্বর পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরে আসামিদের হুমকি ও মানসিক চাপের কারণে ১২ সেপ্টেম্বর সকালে ওই কিশোরী বাড়িতে কীটনাশক জাতীয় বিষ পান করে বলে পরিবারের দাবি। তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাতে তার মৃত্যু হয়।
মামলার বাদী ও ভুক্তভোগীর বড় ভাই বলেন, তার ছোট বোনকে কৌশলে অপহরণ করে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়েছে। পরে আসামিদের হুমকির মুখে সে বিষপান করেছে। তিনি আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
পঞ্চগড় সদর থানার ওসি (তদন্ত) আশীষ কুমার শীল বলেন, স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। মামলার এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার পর ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে। মামলার অন্য আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।