উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
গত সাত মাসে রাজনৈতিক কারণে দেশে কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তবে তার এই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংগঠনটির তথ্য বলছে, এ সময়ে বাকস্বাধীনতা চর্চার কারণে হয়রানি, আটক, হেফাজতে নির্যাতন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে মৃত্যু এবং গুমের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে গণতন্ত্র মানবাধিকার ও জবাবদিহি সরকার ব্যবস্থা শীর্ষক আলোচনা সভায় এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেন মাহদী আমিন ও টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। সভায় মাহদী আমিন বলেন, গত সাত মাসে সরকার অভূতপূর্ব বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করেছে। তবে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী জঞ্জাল একবারে মূলোৎপাটন করা কঠিন।
মাহদী আমিনের বক্তব্যের জবাবে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, উপদেষ্টা একটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাও ঘটেনি বলেছেন। কিন্তু টিআইবির হাতে থাকা তথ্য ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। টিআইবির তথ্য তুলে ধরে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাকস্বাধীনতা চর্চার কারণে কমপক্ষে ৫২টি বিভিন্ন ধরনের হয়রানির ঘটনা ঘটেছে। এ সময়ে ৫৮ জনকে আটক করা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আটক হয়েছেন।
তিনি বলেন, বাকস্বাধীনতার কারণে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আটক করা ২০২৪-পরবর্তী বাংলাদেশে প্রত্যাশিত ছিল না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ার পেছনে যৌক্তিক কারণ রয়েছে উল্লেখ করে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পুলিশ এখনো নৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। তারপরও বেশ কিছু বিষয় তাদের উদ্বিগ্ন করছে। তিনি বলেন, কন্যাশিশু ও নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনা কমপক্ষে ১ হাজার ৭০০টির বেশি এবং এর মধ্যে ৫০৩টি ধর্ষণের ঘটনা রয়েছে।
হেফাজতের নির্যাতনের প্রসঙ্গে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, আটক অবস্থায় নির্যাতন বা হেফাজতে নির্যাতনের ঘটনা হওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু এমন ৫১টি ঘটনা ঘটেছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে সাতজনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। এ ছাড়া একটি গুমের ঘটনাও জানিয়ে তিনি বলেন, ওই ঘটনায় একটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জড়িত রয়েছে।
উপদেষ্টা মাহদী আমিন আবারও বলেন, রাজনৈতিক কারণে কোনো ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তার জানামতে ঘটেনি। রাজনৈতিক কারণে কাউকে হয়রানি করা হচ্ছে না বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় মদদে মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে ধারা অতীতে দেখা গেছে, বর্তমানে সেটি নেই। বরং রাষ্ট্রের কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে ভুল-ভ্রান্তি বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তা জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে।