উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে আবারও সিন্ডিকেট সক্রিয় হওয়ার অভিযোগ তুলে তা ভেঙে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শ্রমিক পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন রাজনৈতিক নেতা ও জনশক্তি রপ্তানিখাতের সংশ্লিষ্টরা। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবীর মিলনায়তনে ‘মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি : সিন্ডিকেট, সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক এক মুক্ত আলোচনা সভায় এ দাবি জানানো হয়। বক্তারা বলেন, সিন্ডিকেটের কারণে বিদেশগামী শ্রমিকদের খরচ বাড়ছে এবং তারা ভোগান্তিতে পড়ছেন, তাই স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কম খরচে শ্রমিক পাঠানো নিশ্চিত করতে হবে।
আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, ৫ আগস্টের আন্দোলনে প্রবাসীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং তারা রেমিট্যান্স পাঠানো বন্ধ রেখে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেন। গরিবের সন্তানরা বিদেশে গিয়ে ঘাম ঝরিয়ে অর্থ উপার্জন করে দেশে পাঠালেও, ধনীদের সন্তানরা বিদেশে পড়তে গিয়ে দেশের অর্থ বিদেশে নিয়ে যান। ৫ আগস্টের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী সিন্ডিকেটমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি শ্রমিকদের কষ্টার্জিত অর্থের যথাযথ ব্যবহার ও তাদের স্বার্থের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আবু আহমেদ বলেন, নির্দিষ্ট ২৫টি কোম্পানির মধ্যে জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ সীমাবদ্ধ না রেখে এটি উন্মুক্ত করা হলে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং শ্রমিকদের বিদেশ যাওয়ার খরচ কমবে। পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোকে কেন্দ্র করে আবারও পুরোনো সিন্ডিকেট সক্রিয় করা হয়েছে এবং কোনো অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও ১৭টি কোম্পানিকে অন্তর্ভুক্ত করার জবাবদিহিতা চাওয়া হয়। নেপাল ও ফিলিপাইন নিজেদের অবস্থান থেকে মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারলে বাংলাদেশ কেন পারবে না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, প্রবাসী শ্রমিকদের সামান্য আয়ের জন্য অসহনীয় কষ্ট করতে হলেও অনেক ক্ষেত্রে তাদের প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ন্যূনতম মানবিকতা দেখা যায় না এবং তাদের পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সভাপতির বক্তব্যে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, যাচাই-বাছাই করে লাইসেন্স দেওয়ার পর এজেন্সিগুলো কাজ না করতে পারলে সেই লাইসেন্সের অর্থ কী, তাই স্বচ্ছ ও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে সব লাইসেন্সধারী এজেন্সিকে কাজের সুযোগ দিতে হবে। অনুষ্ঠানে বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব নুরুল ইসলাম, ফখরুল ইসলাম, সাংবাদিক রাজীব আহমেদ, এবি পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. আব্দুল ওয়াহাব মিনারসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন।