উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
চট্টগ্রামের রাউজান ও আশেপাশের এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং চাঁদাবাজির মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানকে গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলকে গোপন আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করে সে দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে রয়েছে এবং ট্র্যাকিং এড়াতে ব্যবহার করছে বিদেশি প্রযুক্তি। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর বহদ্দারহাটে র্যাব-৭-এর চান্দগাঁও ক্যাম্পে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, চট্টগ্রাম অঞ্চলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মূল হোতা রায়হানকে এখনো গ্রেফতার করতে না পারা বাহিনীর একটি আক্ষেপের বিষয়। রায়হান রাউজানের গভীর পাহাড়ি অঞ্চলকে মূল আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করছে, যেখানে গাড়ি নিয়ে যাতায়াতের পথ নেই এবং সাধারণ মোবাইল নেটওয়ার্কও পৌঁছায় না। এই সভায় র্যাব-৭ সিপিসি-৩-এর কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার মো. তাওহিদুল ইসলামসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ডিজিটাল নজরদারি এড়াতে রায়হান ও তার সহযোগীরা দেশীয় সিম ব্যবহার না করে দুবাই ও ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নিবন্ধিত নম্বর বা আইপি কল ব্যবহার করে। সমতলে নির্দেশনা দেওয়ার প্রয়োজন হলে সে মাত্র ৫ থেকে ১০ মিনিটের জন্য পাহাড়ি ডেরা থেকে নেমে আসে এবং নির্দেশ দিয়েই মুহূর্তের মধ্যে পাহাড়ে গা-ঢাকা দেয়। এর আগে অনলাইনে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ ও র্যাব অভিযান চালিয়ে রায়হানের সহযোগী ডেভিড ইমনসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে।
স্থানীয় পাহাড়ি এলাকার পথঘাট চেনা থাকায় রায়হান বারবার স্থান পরিবর্তন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে আসছে বলে র্যাব জানিয়েছে। তবে সব ধরনের চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে তাকে ধরতে একটি আলাদা বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে যারা সার্বক্ষণিক কাজ করছে এবং পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাও মাঠে রয়েছে। অপরাধীদের নেটওয়ার্ক ভেঙে খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে রায়হানসহ তার বাহিনীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে র্যাব।