উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
ঢাকার বঙ্গবাজার থেকে আনন্দবাজারের দিকে যেতেই হঠাৎ চোখে পড়বে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার আস্তাবল। ব্যস্ততম এই শহরের রাস্তায় ঘোড়া বেঁধে খাওয়ানো ও গোসল করানো হয়। ঢাকা সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে সেখানকার দেয়ালে আঁকা হয়েছে ঘোড়ার নান্দনিক দেয়ালচিত্র। পথচারী ও শিশু-কিশোরদের নজর কাড়লেও এভাবে রাস্তা ঘেঁষে ঘোড়া রাখার ফলে সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। ঐতিহ্যবাহী টমটম একসময় অভিজাত বাহন হলেও এখন তা মূলত বিয়ে বা উৎসবে বর-কনের বাহন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া গুলিস্তান থেকে সদরঘাট রুটে এটি লোকাল যাত্রী যাতায়াতের মধ্যেও সীমাবদ্ধ রয়েছে।
৩০ বছর ধরে ঘোড়ার গাড়ির ব্যবসা করছেন কালু মিয়া, যা তার বাপ-দাদাদের আমলের ঐতিহ্য। তার ভাষ্যমতে, এখন এই ব্যবসায় লাভের চেয়ে পেরেশানি অনেক বেশি বেড়েছে। প্রতিদিন দুই ঘোড়ার খাবারে খরচ হয় ছয়শত টাকা এবং ড্রাইভারের খরচ বাদ দিয়ে তেমন লাভ থাকে না। রাস্তায় গাড়ি রাখলে পুলিশের চাপ আসে, তবুও অভ্যাসের বশে তিনি ব্যবসাটি ধরে রেখেছেন। প্রায় ২০ বছর ধরে টমটম চালানো কালাম মিয়ার নিজেরও একটি গাড়ি রয়েছে। তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দেশি জাতের ঘোড়া এনে সময়মতো খাবার ও ট্রেনিং দিয়ে পোষ মানানো হয়।
বর্তমানে ঘোড়ার গাড়ির ব্যবসা কমে গেলেও বিয়ের অনুষ্ঠানে এর চাহিদা রয়েছে। ঢাকার ভেতরে টমটম ভাড়া হয় আট থেকে দশ হাজার টাকায় এবং ঢাকার বাইরে তা পনেরো থেকে বিশ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়। দৈনিক ড্রাইভারের বেতন আটশত থেকে এক হাজার টাকা এবং বাইরে গেলে খরচ কিছুটা বাড়ে। তবে গুলিস্তান থেকে সদরঘাট লোকাল চালালে কেবল ঘোড়ার দৈনিক খাবারের খরচ ওঠে। যত্রতত্র রাখা এবং যত্নের অভাবে অনেক সময় ঘোড়াগুলোর বিভিন্ন রোগ হয়, তখন ব্যবসায়ীরা পরামর্শ নিয়ে ওষুধ দেন।
ব্যস্ত সড়কে আস্তাবল থাকার ফলে যানজট তৈরি হওয়ায় পুলিশ এটি সরানোর উদ্যোগ নিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। পুরান ঢাকাতেই তাদের বাড়িঘর এবং এই ব্যবসায়ের ঐতিহ্য রয়েছে বলে ব্যবসায়ীদের দাবি। এখান থেকে তাদের সরিয়ে দেওয়া হলে এই ব্যবসা আর টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। কঠোর বাস্তবতার মাঝেও পুরান ঢাকার এই ঐতিহ্যটি টিকে রয়েছে বাপ-দাদাদের আমলের স্মৃতি আর নাড়ির টানে।