উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
ভারতের রান তাড়াতেও অবশ্য শুরুটা পুরোপুরি স্বস্তির ছিল না। পাকিস্তানের বোলাররা ভারতের তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। ফাতিমা সানা ছিলেন পাকিস্তানের সফলতম বোলার। তিনি ১৭ রান দিয়ে নেন তিনটি উইকেট।
তবে জয়ের জন্য ভারতের সামনে লক্ষ্য ছিল মাত্র ৫৬ রান। ফলে বড় কোনো বিপদের মুখে পড়তে হয়নি তাদের। ৮.৪ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৫৭ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় ভারত। অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর ১৮ রানে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
এই জয়ে নারী এশিয়া কাপে দারুণ ছন্দ ধরে রেখেছে ভারত। তিন ম্যাচে তিন জয় নিয়ে তাদের সংগ্রহ ৬ পয়েন্ট। এরই মধ্যে সেমিফাইনালের টিকিটও নিশ্চিত করেছে তারা।
অন্যদিকে পাকিস্তানের সামনে এখনো নকআউট পর্বে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। গ্রুপ পর্বে তাদের শেষ ম্যাচ হংকংয়ের বিপক্ষে। সেই ম্যাচে জয় পেলেই সেমিফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ থাকবে পাকিস্তানের।
টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের আগের সর্বনিম্ন সংগ্রহ ছিল ৫৬ রান। ২০২৪ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেই রানে অলআউট হয়েছিল তারা। এবার ভারতের বিপক্ষে ৫৫ রানে গুটিয়ে গিয়ে নিজেদের সেই বিব্রতকর রেকর্ডও নতুন করে লিখল পাকিস্তান।
এ ছাড়া ২০০৯ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৬০, ২০১২ সালে ভারতের বিপক্ষে ৬৩, তার আগের বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৬৫ এবং ২০১৮ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৭২ রানে অলআউট হয়েছিল পাকিস্তানের মেয়েরা।
ভারতের বিপক্ষেও অবশ্য এর চেয়ে কম রানে অলআউট হওয়ার নজির রয়েছে। ২০১৮ সালে মালয়েশিয়ার মেয়েরা ভারতের বিপক্ষে মাত্র ২৭ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল। থাইল্যান্ড ৩৭ এবং বাংলাদেশ ৫১ ও ৫৪ রানে ভারতের বিপক্ষে অলআউট হয়েছিল। সেই তালিকায় ৫৫ রান নিয়ে এবার পাকিস্তানও যুক্ত হলো।
নারী আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে কম রানে অলআউট হওয়ার রেকর্ড অবশ্য আরও ভয়াবহ। বাংলাদেশের বিপক্ষে মালদ্বীপের মেয়েরা মাত্র ৬ রানে অলআউট হয়ে ২৪৯ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরেছিল।
রুয়ান্ডার বিপক্ষেও মালির মেয়েরা ৬ রানে গুটিয়ে যায়। আন্তর্জাতিক নারী টি-টোয়েন্টিতে ২০ রানের কমে অলআউট হওয়ার ঘটনাও রয়েছে ২৫টি।
নারী এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হারের পাশাপাশি বিব্রতকর এক রেকর্ড গড়েছে পাকিস্তান। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের ইতিহাসের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহে অলআউট হয়েছে তারা।
ভারতের বিপক্ষে মাত্র ৫৫ রানে গুটিয়ে গিয়ে ৭ উইকেটের ব্যবধানে হেরেছে পাকিস্তানের মেয়েরা।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ছিল পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ২০০তম ম্যাচ। মাইলফলকের এই ম্যাচটি স্মরণীয় করে রাখার সুযোগ থাকলেও ব্যাটিং বিপর্যয়ে সেটি আর হয়ে ওঠেনি। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ১৮.১ ওভারে মাত্র ৫৫ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান।
পাকিস্তানের ইনিংসে শুরুটা অবশ্য আশাব্যঞ্জকই ছিল। প্রথম উইকেট জুটিতে শাওয়াল জুলফিকার ও মুনিবা আলি যোগ করেন ২৭ রান। মুনিবা করেন ১৩ রান, আর জুলফিকারের ব্যাট থেকে আসে ১৪ রান।
তবে শাফালি ভার্মার বলে মুনিবা বোল্ড হওয়ার পরই পাকিস্তানের ইনিংসে ধস নামে। ষষ্ঠ ওভারে শ্রী চরণী পরপর দুটি আঘাত হানেন। গুল ফেরোজাকে শূন্য রানে ফেরানোর পর জুলফিকারকেও সাজঘরে পাঠান তিনি। এতে ২৯ রানেই পাকিস্তান হারায় তৃতীয় উইকেট।
এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান। অষ্টম ওভার শেষে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ৩২ রান। শ্রী চরণী, প্রেমা রাওয়াত ও দিপ্তি শর্মার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে পাকিস্তানের ব্যাটাররা কোনোভাবেই ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি।
১৩তম ওভার শেষ হওয়ার আগেই ৭ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৪৫ রান করে পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত আরও তিনটি উইকেট হারিয়ে ৫৫ রানেই থামে তাদের ইনিংস।
ভারতের হয়ে শ্রী চরণী ও প্রেমা রাওয়াত তিনটি করে উইকেট নেন। চরণী চার ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে তিন উইকেট শিকার করেন। রাওয়াত তিন উইকেট নিতে খরচ করেন ৯ রান। দিপ্তি শর্মা ৫ রান দিয়ে নেন দুটি উইকেট।
এর আগে নারী টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ ছিল ৬৩ রান। ২০১২ সালের নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষেই সেই সংগ্রহ করেছিল তারা। এবার সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে ৫৫ রানে অলআউট হলো পাকিস্তান।