উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
বুধবার রাজধানীর গোড়ান-খিলগাঁও এলাকার শান্তিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, শিক্ষায় বিনিয়োগ কোনো ব্যয় বা অপচয় নয়, বরং এই বিনিয়োগই ভবিষ্যতের ভিত্তি। স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি আশরাফ উদ্দিন রুবলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় তিনি আরও বলেন, সড়ক-সেতু বা দালানকোঠার মতো অবকাঠামো রাষ্ট্রের দৃশ্যমান উন্নয়নের প্রতীক হলেও শিক্ষিত ও মানবিক জনশক্তি হলো সেই উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ১ লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থীকে ট্যাব বিতরণ এবং ১৯ হাজার মাধ্যমিক স্কুলছাত্রীর মধ্যে পিঙ্ক কালারের সাইকেল বিতরণ বিবেচনাধীন রয়েছে। শুধু ভালো ফলাফল করাটাই জীবনের চূড়ান্ত সাফল্য নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, মেধা মানুষকে এগিয়ে দেয় কিন্তু সততা, মানবিকতা ও নৈতিক মূল্যবোধ মানুষকে সত্যিকারের মহান করে তোলে। জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি বিনয়, সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে লক্ষ্য অর্জনে সচেষ্ট থাকতে বলেন।
শিক্ষকদের অবদানের কথা স্মরণ করে হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন ও অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি শিক্ষক সমাজকে সম্মানিত করা এবং তাদের অবদান স্মরণীয় রাখা। ভালো কাজে উৎসাহিত করতে ইতোমধ্যে ১০০ জন শিক্ষককে ১ লাখ টাকা করে সম্মাননা ভাতা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এবং তিনি নিজের নির্বাচনী এলাকার শিক্ষকদের জন্য ব্যক্তিগতভাবে আরও ১ লাখ টাকা অনুদানের ঘোষণা দেন। বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকার শিক্ষকদের পেনশন বন্ধ রেখে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে, যার মধ্যে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার ৬ মাসের মধ্যে ২ হাজার কোটি টাকার উপরে পরিশোধের ব্যবস্থা করেছেন এবং পর্যায়ক্রমে সব বকেয়া পরিশোধ করা হবে।
বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী বছরের মধ্যে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিডডে মিল বা দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া শিক্ষা খাতে বাজেটের বরাদ্দ ক্রমান্বয়ে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়তে ১০ হাজার ৩৪০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২০ হাজার ৬৮০টি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের কাজ চলমান রয়েছে।