উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে মিডিয়া অ্যান্ড সিভিল রাইটস সোসাইটি আয়োজিত ‘চট্টগ্রাম বন্দর ও জাতীয় স্বার্থ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের ধারাবাহিকতার প্রতি ন্যূনতম সম্মান এবং জাতীয় স্বার্থের প্রতি ন্যূনতম গুরুত্ব থাকলে কিছু পরিবর্তনের সূচনা হতো। কিন্তু আমরা কোনো ধরনের সুপরিবর্তনের সূচনা দেখতে পাচ্ছি না এবং পরিবর্তন আনতে হলে জাতীয় সক্ষমতা ও জাতীয় স্বার্থের ওপর দাঁড়ানোর জায়গা তৈরি করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক ড. মোশাহিদা সুলতানা ঋতু বলেন, বাংলাদেশে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, বে টার্মিনাল, নিউমুরিং ও লালদিয়ার এপিএম টার্মিনালসহ একের পর এক নতুন বন্দর ও টার্মিনাল হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩৫ সালের মধ্যে কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ৮৬ লাখ টিইইউতে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে, কিন্তু বৈশ্বিক সংকটের কারণে প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ছে না। আমাদের মূল সমস্যা শুধু বন্দরের সক্ষমতার ঘাটতি নয়, কাস্টমসে পণ্য খালাসে বিলম্ব এবং রেল যোগাযোগের সীমাবদ্ধতাও বড় সংকট।
সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল কাফি রতন বলেন, লাভজনক টার্মিনালসহ দেশের বিভিন্ন সম্পদ বিদেশি ও বেসরকারি মালিকানায় হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে যা জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী। কমিউনিস্ট পার্টি, গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট এবং সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ও যুদ্ধবিরোধী জোট দেশের সম্পদ বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। মাওলানা ভাসানী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার বিরোধিতার সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা ও জনগণের সম্পদের মালিকানার প্রশ্ন জড়িত।
অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ বলেছেন, অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম বন্দর আরেকজনের হাতে তুলে দেওয়ার সঙ্গে অন্য কোনো বিষয়ের তুলনা হতে পারে না। নৌবাহিনী কিংবা দেশীয় বেসরকারি কোম্পানিগুলোর বন্দর পরিচালনার সক্ষমতা রয়েছে এবং যথাযথ পরিকল্পনা করা হলে রাষ্ট্রীয়ভাবে বন্দর পরিচালনা সম্ভব। সরকারের নীতিতে সবার আগে সাম্রাজ্যবাদী বা মার্কিন স্বার্থ প্রাধান্য পাচ্ছে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের মানুষ মার্কিন স্বার্থ রক্ষার জন্য ভোট দেয়নি।