উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
গ্রামীণফোনের চার হাজারেরও বেশি সাবেক ও বর্তমান কর্মীর বকেয়া পাওনা আদায়ের দাবিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ভবনের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানী ঢাকার আগারগাঁওয়ে ‘গ্রামীণফোন ৫% বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানارে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে ২০১০-২০১২ মেয়াদের শ্রমিকদের অংশগ্রহণ তহবিল ও শ্রমিক কল্যাণ তহবিল সংক্রান্ত পাঁচ শতাংশ বিলম্বজনিত পাওনা দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানানো হয়। দীর্ঘ ১৫-১৬ বছর ধরে সাবেক কর্মীদের এই ন্যায্য পাওনা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে বক্তারা অভিযোগ করেন।
বক্তারা আরও জানান, এই বকেয়া পাওনা পরিশোধ করা হলে তা শুধু কর্মীদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করবে না, বরং সরকারি কোষাগারে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য রাজস্ব যুক্ত হতে পারে। মানববন্ধনে জানানো হয় যে, এই সমস্যার সমাধানের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ সরকারি রাজস্ব, বিদেশি মুদ্রার আগমন এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির গতিশীলতা সরাসরি যুক্ত রয়েছে। এনবিআর প্রাক্কলন ও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করলে বৈধ ব্যাংকিং মাধ্যমে অর্থপ্রবাহ বৃদ্ধি পাবে। যা দেশের অভ্যন্তরে সঞ্চয় ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
সংগঠনের আহ্বায়ক আবু সাদাত মো. শোয়েব জানান, গত ৩ আগস্ট এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে এই বিষয়ে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত তার কার্যকর কোনো জবাব বা কোনো ধরনের দৃশ্যমান অগ্রগতি পাওয়া যায়নি। আজকের এই কর্মসূচি থেকে এনবিআরের কাছে ৫টি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে। সরকারের সম্ভাব্য প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব যাচাইয়ে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
এছাড়াও শ্রম মন্ত্রণালয়, বিটিআরসি, বাংলাদেশ ব্যাংক ও গ্রামীণফোনের সঙ্গে কোনো সমন্বয় সভা করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও জানতে চাওয়া হয়। দীর্ঘ অনিষ্পন্নতার কারণে সরকার কোনো রাজস্ব হারাচ্ছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে কি না, তা স্পষ্ট করার আহ্বান জানানো হয়। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ঝুলে থাকা এই পাওনা আদায়ে এনবিআরের তরফ থেকে কার্যকর ভূমিকা না দেখা গেলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।