উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
সন্তানকে সম্পত্তি দান বা হস্তান্তরের পরও পিতা-মাতা যাতে আমৃত্যু তা ভোগ ও দখলে রাখতে পারেন, সেই বিধান রেখে জাতীয় সংসদে ‘দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিলটি উত্থাপন করেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
আইন পাসের প্রাক্কালে বক্তব্যের এক পর্যায়ে ব্যক্তিগত উদাহরণ টেনে ইসলামি আইন ও প্রচলিত পারিবারিক অধ্যাদেশের তুলনামূলক ব্যাখ্যা দেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমার একটা মাত্র বউ, আমি যদি আজ তাকে তালাক দিতে চাই ইসলামিক ল অনুসারে তিন তালাক বললে হয়ে যাবে, কিন্তু ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশে আর্বিট্রেশন কাউন্সিলে নোটিশ দিতে হয় এবং ৯০ দিন সময় লাগে। মূলত আইনি প্রক্রিয়া এবং সামাজিক সুরক্ষার বিষয়টি বোঝাতেই মন্ত্রী এই উদাহরণের অবতারণা করেন।
নতুন এই সংশোধনীর ফলে এখন থেকে সন্তানকে সম্পত্তি হস্তান্তর বা হেবা করলেও অভিভাবকরা আমৃত্যু সেই সম্পত্তি ব্যবহারের অধিকার নিজেদের কাছে সংরক্ষিত রাখতে পারবেন। এতদিন অনেক বৃদ্ধ পিতা-মাতা সন্তানদের নামে সম্পত্তি লিখে দিয়ে পরবর্তীতে ঘরছাড়া বা বৃদ্ধাশ্রমের মতো করুণ পরিস্থিতির শিকার হতেন।
সংসদে পাস হওয়া এই বিলটিকে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা প্রবীণদের সামাজিক সুরক্ষায় একটি ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়ে সাধুবাদ জানিয়েছেন। অন্যদিকে বিলে কিছু সংশোধনী ও প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বিরোধী দলের সদস্যরা কণ্ঠভোটের আগে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন। তবে শেষ পর্যন্ত সর্বসম্মতিক্রমে ও কণ্ঠভোটে ঐতিহাসিক এই বিলটি পাস হয়ে আইনে পরিণত হয়।