উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
রোহিঙ্গা সংকট যত দীর্ঘায়িত হবে, বাংলাদেশে এর মানবিক ও নিরাপত্তাঝুঁকি তত বাড়বে। শুধু মানবিক সহায়তায় এ সংকট সামাল না দিয়ে দ্রুত প্রত্যাবাসনের পথ তৈরি করতে হবে। এ জন্য আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পক্ষগুলোকে দায়িত্ব নিতে হবে এবং একটি সমন্বিত জাতীয় কৌশল প্রণয়ন করা প্রয়োজন। গতকাল রোববার রাজধানীর রমনায় আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল কো–অপারেশন ফাউন্ডেশন (আইজিসিএফ) এই আলোচনার আয়োজন করে।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধান যত দেরি হবে, সার্বিক সংকট তত বাড়বে। স্থানীয় লোকজন ও রোহিঙ্গারা উভয়ই এর ভুক্তভোগী হবে। রাখাইনে স্থিতিশীলতা ফেরাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কাজ করতে হবে। রোহিঙ্গা শিবিরগুলোয় নারীর প্রতি সহিংসতা ও মাদক চোরাচালান বাড়ছে। বর্তমান সরকার রোহিঙ্গা ইস্যুকে জাতীয় নিরাপত্তার দিক থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, প্রকৃত প্রত্যাবাসনের দিকে এগোতে আমরা যাচাইপ্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করাকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। যাচাইপ্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকাল ধরে চলতে পারে না। বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থার ভিত্তিতে এটি দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে শিবিরে জন্ম নেওয়া এবং ২০১৭ সালের পর রাখাইন থেকে আসা ব্যক্তিদের বাস্তব পরিস্থিতিও বিবেচনায় নিতে হবে।
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে অগ্রগতি না হওয়ার জন্য বিগত সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা দায়ী বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, সরকারের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার অভাবে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের রোহিঙ্গা শিবিরের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কার্যকরভাবে সাড়া দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, মিয়ানমারকে স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে যে বাংলাদেশের কৌশলগত ধৈর্যেরও সীমা রয়েছে।