উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
বাংলাদেশে বড় ঋণ খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার বদলে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও ‘ছাড়’ দেয়ার নীতিতে হাঁটছে। ২০২৫ সালের জুন শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ছয় লাখ ছয় হাজার পাঁচ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, এই পরিকল্পনার সফলতা বা ব্যর্থতা রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে। রাজনৈতিকভাবে ব্যাংকগুলোকে প্রভাবিত করা বন্ধ না হলে এসব পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে কাজে আসবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিআইবিএম-এর অধ্যাপক ড. মো. আহসান হাবীব জানান, বিদ্যমান আইনে ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে এখনো কঠিন পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হয়নি। অর্থঋণ আদালতে মামলা নিষ্পত্তিতে পাঁচ থেকে সাত বছর সময় লাগায় ব্যাংকগুলো আইনি প্রক্রিয়ায় খুব একটা আগ্রহী হয় না।
২০০৯ সালে দেশে খেলাপি ঋণ ছিল মাত্র ২২ হাজার কোটি টাকা, যা ২০২৪ সালের জুনে দুই লাখ এক হাজার কোটিতে পৌঁছায়। গত দুই দশকে খেলাপি ঋণের এই বোঝা সাড়ে পাঁচ লাখ কোটি টাকার বেশি বেড়েছে। বর্তমানে বড় খেলাপিদের ঋণ পরিশোধে ১৫ বছর পর্যন্ত সময় ও দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ড দেয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক প্রভাবে অপরিণামদর্শী ঋণ, তদারকির অভাব এবং ব্যাংক পরিচালকদের নামে-বেনামে ঋণ নেওয়াই এই সংকটের মূল কারণ। যুক্তরাষ্ট্র, চীন বা ভারতের মতো কঠোর ব্যবস্থা বাংলাদেশে না থাকায় খেলাপিরা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক অবশ্য এই ছাড়ের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলছে, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও সুদের হারের চাপের কারণে ব্যবসায়ীদের সক্ষমতা কমেছে। বড় ঋণগ্রহীতাদের অতিরিক্ত সময় দিলে আলোচনার মাধ্যমে অন্তত ৫০ শতাংশ অর্থ আদায় এবং কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে।