উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মানবজাতির দীর্ঘ ইতিহাসে বহু শাসক এসেছেন, বহু রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে, আবার সময়ের স্রোতে হারিয়েও গেছে। কিন্তু এমন নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত বিরল, যেখানে একজন মানুষ একই সঙ্গে ছিলেন আল্লাহর রসুল, আদর্শ শিক্ষক, সর্বশ্রেষ্ঠ সমাজ সংস্কারক, ন্যায়বিচারক, দক্ষ সেনাপতি, বিচক্ষণ কূটনীতিক ও মহান রাষ্ট্রনায়ক। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মদিনার জীবন সেই বিরল ইতিহাসের উজ্জ্বল অধ্যায়। মক্কায় ১৩ বছর ইমান ও তাওহিদের দাওয়াত দেওয়ার পর ৬২২ খ্রিস্টাব্দে রসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় হিজরত করেন।
মদিনায় পৌঁছে তিনি প্রথমে মসজিদ নির্মাণ করেন এবং মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন প্রতিষ্ঠা করেন। মদিনার বহুগোষ্ঠীর সমাজকে সুসংগঠিত করতে তিনি লিখিত চুক্তি প্রণয়ন করেন, যা মদিনা সনদ নামে পরিচিত। রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রে থাকা ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে ধনী-দরিদ্রের কোনো পার্থক্য ছিল না। বনু মাখজুমের নারীর চুরির ঘটনায় তিনি স্পষ্ট জানান, মোহাম্মদের কন্যা ফাতিমাও চুরি করলে তার হাত কেটে দেওয়া হতো।
বদর, উহুদ ও খন্দকের যুদ্ধের মতো সন্ধিক্ষণে সাহাবিদের সঙ্গে তাঁর পরামর্শ ও দূরদর্শিতা অনন্য দৃষ্টান্ত। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে জাকাতের ব্যবস্থা, সুদ নিষিদ্ধকরণ এবং সম্পদের সুষম প্রবাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে তিনি ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ গঠন করেন। হুদাইবিয়ার সন্ধির মাধ্যমে কূটনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়ে তিনি বৃহত্তর শান্তিকে অগ্রাধিকার দেন। মক্কা বিজয়ের দিনে প্রতিশোধের পথ না বেছে তিনি ক্ষমা ও মহানুভবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
তাঁর রাষ্ট্রজীবনের সাফল্যের রহস্য রাজনৈতিক কৌশল বা সামরিক শক্তিতে নয়, বরং তাওহিদ, ন্যায়বিচার, আমানতদারি ও জনকল্যাণের অঙ্গীকারে নিহিত ছিল। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেন, নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী।