উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
রাজধানীর রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সামাজিক সংগঠন মুন এলার্ট আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিখোঁজ শিশুদের খুঁজে পেতে অন্তত দুই ডজন পরিবারের পক্ষ থেকে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। গত রোববার অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ৩৫টি ভুক্তভোগী পরিবার, যারা তাদের হারিয়ে যাওয়া সন্তানকে ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। মুন এলার্টের তথ্য অনুযায়ী, কার্যক্রম চালুর পর থেকে তাদের কাছে শিশু নিখোঁজের ১ হাজার ২২৬টি অভিযোগ এসেছে এবং পুলিশের সহযোগিতায় আট শ'র অধিক শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিগত বিভিন্ন সময়ে সন্তান হারানো বাবা-মায়েরা পুলিশের অসহযোগিতা ও দায়িত্বহীনতার চিত্র তুলে ধরেন। গত ১৩ মে ঢাকার মিরপুর-১১ এলাকা থেকে নিখোঁজ শিশু মোহাম্মদ ইব্রাহিমের বাবা ফুচকা বিক্রেতা মোহাম্মদ জসিম জানান, পল্লবী থানা প্রথমে জিডি না নিয়ে ১৭ দিন ঘুরিয়েছে এবং পরে মামলা ডিবিতে স্থানান্তর করে। রাজবাড়ী থেকে আসা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য মো. নজরুল ইসলাম জানান, গত বছরের ২০ মে তার একমাত্র সন্তান তামিম নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে দেশজুড়ে খুঁজে বেড়ালেও এখনও সন্ধান মেলেনি।
গত ৩০ আগস্ট বনানী সৈনিক ক্লাবের সামনের ফুটওভার ব্রিজের কাছ থেকে চার বছরের শিশু সাইবা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পুলিশ চরম অসহযোগিতা করেছে বলে অভিযোগ করেন তার মা ও নানি। নিখোঁজের পর বনানী থানা পুলিশ পরপর দুদিন তাদের তাড়িয়ে দেয় এবং জিডি নিতে দেরি করে। এমনকি তদন্তকারী কর্মকর্তা তাদের জানান যে বাচ্চা খুঁজে বের করা পুলিশের কাজ নয়। এছাড়া খুলনা কয়রার বিলকিস বেগম অভিযোগ করেন, তার শিশু কন্যা সামিরা নিখোঁজের ঘটনায় সন্দেহভাজন আজমিরকে আটক করলেও পুলিশ সামান্য জিডি দিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের এসব অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ ওসমান গণি জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তারা তা যাচাই করে ব্যবস্থা নেবেন। একই বিষয়ে পুলিশের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানান, শিশু নিখোঁজের বিষয়টি সংবেদনশীলভাবে দেখার জন্য মাঠ পর্যায়ের পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া আছে এবং জিডি নিতে অনীহা বা অসহযোগিতা করলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হয়েছে এবং এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।