উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
চট্টগ্রামের রাউজানে আব্দুল করিম নামের এক যুবদলকর্মীকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী ও জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখেন। এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের কেরাণীহাট বাজার এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে দুই কিলোমিটার দূরে প্রকাশ্যে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল করিম ওই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে কেরাণীহাট বাজার এলাকায় সন্ত্রাসীরা করিমকে লক্ষ্য করে প্রকাশ্যে গুলি চালায় এবং কিরিচ দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় এবং খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় শুক্রবার সকালে নিহতের স্ত্রী বিলকিস আক্তার বাদী হয়ে রাউজান থানায় কোনো আসামির নাম উল্লেখ না করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ জানায়, করিমের পেট, ঊরু ও নিতম্বে গুলি লাগার পাশাপাশি ঘাড় ও কপালে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে এবং ঘটনাস্থলের আশপাশে কোনো সিসি ক্যামেরা না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান কোনো ক্লু পাওয়া যায়নি।
রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুহাম্মদ বেলায়াত হোসেন জানান, সন্ত্রাসীদের আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্ব থেকে এ খুনের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে এবং ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পরিদর্শনের পর চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, নিহত ব্যক্তির বিরুদ্ধে চুরি-ছিনতাই, ডাকাতি ও ধর্ষণসহ মোট ৯টি মামলা রয়েছে এবং তদন্তের পর মূল ঘটনা বেরিয়ে আসবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে এ পর্যন্ত রাউজানে ২৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ২০টি হত্যাকাণ্ডই রাজনৈতিক বিরোধের জেরে সংঘটিত হয়েছে এবং একই সময়ে শতাধিক গোলাগুলি ও সংঘর্ষে সাড়ে তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।