উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
চট্টগ্রামের পাহাড়তলী কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মো. মিজানুর রহমান চৌধুরীকে অপহরণ করে টর্চার সেলে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলায় গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) পাহাড়তলী কলেজের অধ্যক্ষ শ্যামল কান্তি মজুমদারসহ সাতজনের বিরুদ্ধে খুলশী থানায় এই মামলা করেন ভুক্তভোগী শিক্ষক। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, গত ২৯ আগস্ট সংবাদ প্রকাশের জেরে গত ২৪ আগস্ট কলেজের অধ্যক্ষের অনিয়মের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ায় শিক্ষকের কক্ষে হামলা চালানো হয়। পরে বিকেল ৪টা ২৯ মিনিটের দিকে তাকে একটি গাড়িতে তুলে ওয়্যারলেস এলাকার একটি কথিত টর্চার সেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ওয়াকিল হোসেন বগার নেতৃত্বে তাকে লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং ১২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
নির্যাতনের সময় চাকরি করতে হলে অধ্যক্ষ শ্যামল কান্তি মজুমদার ও ওয়াকিল হোসেনকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে এবং অভিযোগপত্র প্রত্যাহার করতে চাপ দেওয়া হয়। প্রাণভয়ে তিনি সব দাবি মেনে নেওয়ার কথা বলার পর একটি ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাকে ওয়্যারলেস মোড়ে ফেলে রেখে যাওয়ার পর তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
এদিকে খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুর রহিম জানান, কলেজ শিক্ষক পেটানোর ঘটনায় নিয়মিত মামলা হওয়ার পর আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযানে যায়। কিন্তু আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করে। হামলায় ওসির হাতসহ ৫-৬ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং বগাবাহিনীকে ধরতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মামলার পর থেকে বগাবাহিনী হত্যার হুমকি দেওয়ায় শিক্ষক মিজানুর রহমান চৌধুরী নিজের নিরাপত্তা চেয়েছেন। পুলিস হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে এবং ওয়াকিল হোসেনসহ অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।