উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে মন্ত্রণালয়ের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার অভিযোগ উঠেছে। কেবল বদলি-পদোন্নতি বাণিজ্যই নয়, যুব উন্নয়নের কেনাকাটা ও টেন্ডারবাজির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ দুর্নীতির অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই সিন্ডিকেটে ঊর্ধ্বতন তিন কর্মকর্তা ছাড়াও মো. গোলাম মোস্তফা, মামুন, জাহিদসহ মাঠপর্যায়ের বেশ কিছু কর্মকর্তা জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে গত বুধবার সংবাদ সম্মেলন করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি জানান, পদোন্নতির প্রক্রিয়ায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন না কারণ জেলা বা উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তার পদায়নে মন্ত্রীর অনুমোদন লাগে না। সচিবের মাধ্যমেই প্রশাসনিক প্রক্রিয়া পালন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি যেকোনো তথ্য বা নথি সরবরাহ করতে প্রস্তুত বলে জানান।
সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে চার ধরনের নথিপত্র তলব করে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। গত বৃহস্পতিবার যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর পাঠানো চিঠিতে এই তথ্য জানা গেছে এবং অনুসন্ধান কর্মকর্তা মো. জাহিদ কালাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নথি পাঠাতে বলা হয়েছে।
দুদকের চাহিদাকৃত নথিপত্রের মধ্যে রয়েছে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের দায়িত্ব পালনকালে সম্পাদিত সকল নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি সংক্রান্ত নথিপত্র। এছাড়া ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব প্রদান ও পদায়ন সংক্রান্ত নথি এবং নির্দিষ্ট জেলাগুলোতে কর্মরত সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত নথি চাওয়া হয়েছে।
সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্মসচিব শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন ও উপ-সচিব মো. মাসুম আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। দুদকের উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং উপ-পরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল ও নতুন পদে পদায়নের মাধ্যমে ৭৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে পদোন্নতির নামে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং পছন্দের স্থানে পদায়নের জন্য আরও ২ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে।