উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক সিডও দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। ভাষা আন্দোলন থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত নারীদের ভূমিকা থাকলেও সরাসরি নির্বাচনে সংসদে এসে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় নারীদের অংশগ্রহণ এবং যোগ্যতা অনুযায়ী স্থান দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, সামাজিক পরিবর্তনও প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ডিজিটাল পরিসরে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ এবং নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, এ বিষয়ে ঢাকায় একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে এবং পরবর্তীতে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের সময় বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। এ উদ্যোগে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট নারী সংগঠনগুলোর সহযোগিতা চান তিনি। ডিজিটাল হয়রানির বিষয়টি এখন শুধু একটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই জানিয়ে এটি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক উদ্যোগের ওপর জোর দেন প্রতিমন্ত্রী।
নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়নকে শুধু অর্থনৈতিক সক্ষমতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না সরকার। নারীর নিরাপদ চলাচল, জীবনযাপন এবং অন্যায়ের শিকার হলে দ্রুত ন্যায়সংগত বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। নারী ও শিশুর প্রতি যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত দৃঢ় উল্লেখ করে শিশু রানিসা ও চট্টগ্রামের চার বছর বয়সী শিশু ধর্ষণ মামলার দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি তিনি তুলে ধরেন। এছাড়া জেন্ডার বাজেটে ৩ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা জাতীয় বাজেটের প্রায় ৩৪ দশমিক ৮ শতাংশ বলে তিনি জানান।
ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সরকারের সহায়তা সরাসরি নারীর হাতে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন শামা ওবায়েদ। প্রবাসী নারীদের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে আন্তঃমন্ত্রণালয় ফোকাল টিম গঠন করা হয়েছে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি নিবেদিত অভিবাসন শাখাও খোলা হয়েছে। সিডও সনদের বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামী বছর বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিবেদন পর্যালোচনা হবে, যা দেশের অর্জন তুলে ধরার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণের সুযোগ তৈরি করবে। সভায় উইমেন ফর উইমেনের সভাপতি জাকিয়া কে হাসান, অ্যাডভোকেট সালমা আলী, শাহনাজ সুমী, চন্দন লাহিড়ী এবং আশরাফুন নাহার মিষ্টি বক্তব্য দেন।