উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
সম্পত্তিতে নারীর সমান অধিকার নিশ্চিত না হলে পূর্ণাঙ্গ ক্ষমতায়ন সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। আন্তর্জাতিক সিডও দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এই অভিমত জানানো হয়। মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেমের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশের নারীরা অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করলেও ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্থাবর সম্পত্তির মালিকানা না থাকায় নারী উদ্যোক্তারা ব্যাংক থেকে বড় অংকের ঋণ পেতে ব্যর্থ হন। ফলে বাধ্য হয়ে চড়া সুদে এনজিও বা ক্ষুদ্রঋণের ওপর নির্ভর করতে হয় এবং অনেক সময় পুরুষ আত্মীয়দের হাতে ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ চলে যায়।
প্রবন্ধে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ সরকার ১৯৮৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর সিডও সনদে স্বাক্ষর করলেও ২ এবং ১৬(১)(গ) ধারায় এখনও সংরক্ষণ বজায় রেখেছে। বৈষম্যমূলক আইন পরিবর্তন ও বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ না নিয়ে সরকার ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ৯ম ও ১০ম প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ২০১৬ সালে সিডও কমিটিও এই দুটি ধারা থেকে সংরক্ষণ তুলে নেওয়ার তাগিদ দিয়েছিল।
বৈষম্য নিরসনে মহিলা পরিষদের পক্ষ থেকে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ পেশ করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে আইনি ও সাংবিধানিক সংস্কার, সম্পত্তির যৌথ মালিকানা বাধ্যতামূলক করা, সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তন, সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা এবং বিনামূল্যে আইনি সহায়তা। বক্তারা বলেন, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এবং সম্পত্তিতে অধিকার না থাকলে নারী নির্যাতন থেকে সুরক্ষা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সংঘটিত এই সভায় বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।