উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্তে সরকারি তথ্য ব্যবস্থায় সমন্বিত ফ্যাক্টচেকিং কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা জেসমিনের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে তথ্য অধিদফতর একটি সমন্বিত ফ্যাক্টচেকিং ও তথ্য যাচাই কাঠামো গড়ে তুলেছে। তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় ফ্যাক্টচেকিং ও গুজব প্রতিরোধ কমিটি সার্বক্ষণিকভাবে কার্যরত রয়েছে। এই কমিটির দিকনির্দেশনায় প্রধান কার্যালয়সহ আঞ্চলিক তথ্য অফিসগুলো অনলাইন প্ল্যাটফর্ম মনিটর করে স্পষ্টীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য রোধে ফ্যাক্টচেক ও মিডিয়া অ্যানালাইসিস কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পিআইবির ফ্যাক্টচেকিং ইউনিট বাংলাফ্যাক্ট এ পর্যন্ত ৮৬০টি ফ্যাক্টচেক, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং ভিডিও প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রকাশ করা হয়েছে ৩০৬টি। এছাড়া পিআইবির প্রশিক্ষণ বিভাগ ৬৪ জেলায় সাংবাদিকতার বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, গত দুই বছরে পিআইবি আয়োজিত প্রতিটি প্রশিক্ষণে অন্তত একদিন গুজব মোকাবিলা ও ফ্যাক্টচেকিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাফ্যাক্ট ফেসবুক ও অনলাইনে ভুয়া অ্যাকাউন্ট, পেজ, গ্রুপ এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ায় এমন ওয়েবসাইট ও এক্স অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করেছে। বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসুদ সরকারের বিরুদ্ধে মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণের অভিযোগ তোলেন। তিনি মন্ত্রীদের নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তা সরিয়ে নেওয়া এবং সাইবার হামলার প্রসঙ্গ টেনে সরকারের ব্যাখ্যা চান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে তিনি এই প্রশ্ন উত্থাপন করেন।
জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী জানান, অতীতের যেকোনও সময়ের তুলনায় বর্তমানে গণমাধ্যম সবচেয়ে বেশি স্বাধীনতা ভোগ করছে। তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যম স্বাধীন এবং কোন সংবাদ প্রকাশ করবে বা করবে না তা তাদের নিজস্ব বিষয়, যেখানে সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করে না। সংবাদ সঠিক নয় মনে হলে তা সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সরকার হস্তক্ষেপ করে না এবং সংবাদ স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে গণমাধ্যমকে কোনো রকম নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।