উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে সামিয়া হাকিম নিহা (১৮) নামের তিন মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ১ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের কান্দিরপাড় এলাকার সোলেমান কন্ট্রাক্টর বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। মাত্র পাঁচ মাস আগে পারিবারিকভাবে মোহাম্মদ মারুফ পারভেজের সঙ্গে তার বিবাহ হয়েছিল এবং মৃত্যুর সময় তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
পরে রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে যেকোনো সময় নিহা নিজ ঘরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে স্বামী মারুফ পারভেজসহ আশেপাশের লোকজন তাকে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের মা শারমিন আকতারের দাবি, তার মেয়েকে নির্যাতনের পর হত্যা করে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে এবং তিনি জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান।
এ ঘটনায় বুধবার ২ সেপ্টেম্বর নিহতের মা শারমিন আকতার বাদী হয়ে আত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগ এনে স্বামীসহ দুজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও দু-তিনজনকে আসামি করে ফটিকছড়ি থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত দুজন হলেন নিহতের স্বামী মো. মারুফ পারভেজ এবং নিহতের ননদের স্বামী মো. আলাউদ্দিন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই অভিযুক্তদের কু-পরামর্শে স্বামী মারুফ পারভেজ পারিবারিক তুচ্ছ বিষয় নিয়ে নিহাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন।
ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান ঢাকা পোস্টকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী মারুফ পারভেজ পলাতক রয়েছেন। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা রুজু হয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।