উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার থানার পুলিশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অভিনব সহায়তা নিয়ে হবিগঞ্জে নিখোঁজ হওয়া রহিমা খাতুনকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে। গত ২৭ আগস্ট রাতে চকবাজার এলাকায় এক বৃদ্ধাকে একা ঘুরতে দেখে এক পথচারী তাকে থানায় নিয়ে আসেন। তবে কোনো কাগজপত্র, মোবাইল নম্বর বা পূর্ণ ঠিকানা না থাকায় পুলিশ বিপাকে পড়েছিল।
ডিউটি অফিসারের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে বৃদ্ধাকে নিজের কাছে বসিয়ে কথা বলতে শুরু করেন চকবাজার থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মো. ফিরোজ আলম মুন্সি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারী কেবল নিজের নাম রহিমা এবং বাড়ি মিরপুর বলে জানান কিন্তু জেলা বা থানা সম্পর্কে কোনো ধারণা দিতে পারেননি। দীর্ঘক্ষণ কথা বলার পর তার কাছ থেকে পরিবারের সদস্য ও মেয়ের জামাইয়ের বাড়ির কিছু বিচ্ছিন্ন তথ্য পাওয়া যায়।
এই বিচ্ছিন্ন তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করে এসআই ফিরোজ ধারণা করেন বৃদ্ধার বাড়ি সিলেট বিভাগের কোনো এলাকায় হতে পারে কিন্তু সুনির্দিষ্ট ঠিকানা পাওয়া অসম্ভব ছিল। পরে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চ্যাটজিপিটির সহায়তা নেন এবং চ্যাটজিপিটির বিশ্লেষণ থেকে হবিগঞ্জের বাহুবল থানার মিরপুর এলাকার একটি সম্ভাব্য সূত্র পাওয়া যায়। চ্যাটজিপিটির দেওয়া তথ্যকে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে না নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বাহুবল থানায় ফোন করেন এসআই ফিরোজ।
খবর পেয়ে বাহুবল থানার উপ-পরিদর্শক মহসিন রেজা সৌরভ চকবাজার থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান রহিমা খাতুন নামে এক নারীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় ইতোমধ্যে জিডি হয়েছে। বাহুবল থানার জিডি সূত্রে জানা যায় গত ২২ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন রহিমা খাতুন এবং ২৭ আগস্ট তার ছেলে কদর আলী জিডি করেন। প্রযুক্তির এই ইতিবাচক ব্যবহারের মধ্য দিয়ে রোববার ৩০ আগস্ট স্বজনেরা চট্টগ্রামে এসে রহিমা খাতুনকে শনাক্ত করেন ও যাচাই-বাছাই শেষে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।