উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
গুমের শিকার হওয়ার ৬১ দিনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা স্মরণ করে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বিদেশের মাটিতে পাগল অবস্থায় মারা যাওয়ার এবং পরিবারের সদস্যরা তাঁর কবরও দেখতে না পাওয়ার ভয় পেয়েছিলেন। রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই স্মৃতিচারণা করেন।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ২০১৫ সালের শুরুর দিকে রাজধানীর উত্তরা থেকে নিখোঁজ হন তৎকালীন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমদ। গোয়েন্দা সংস্থা তাঁকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগ করে বিএনপি। এর ৬২ দিন পর ১১ মে সিলেটের সীমান্ত লাগোয়া ভারতের মেঘালয়ে শিলংয়ের পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, তাঁকে একটি ৮ ফুট বাই ৪ ফুটের ছোট কক্ষে আটকে রাখা হয়েছিল যেখান থেকে দুর্গন্ধ আসত। মেঝেতে একটি কম্বল ও বালিশ ছিল এবং স্বাভাবিকভাবে ঘুমানোর কোনো পরিবেশ সেখানে ছিল না। এক বেলা নাশতা ও দুই বেলা খাবার দেওয়া হলেও অসুস্থ হলেও চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না।
পরে তাঁকে চোখ বেঁধে গাড়িতে করে অন্য একটি স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদের পর নির্জন এলাকায় নামিয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে থানায় এবং পরে মানসিক হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসকদের বোঝানোর চেষ্টা করলেও তাঁকে মানসিক রোগীদের সঙ্গে রাখা হয়েছিল এবং ওষুধ খাওয়ানো হয়েছিল।
দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে এবং ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানের পর দেশে ফেরেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং দীর্ঘ ৯ বছর পর ভারত থেকে দেশে ফেরার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।