উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
গুমের মতো গুরুতর অপরাধের তদন্তের ক্ষমতা পুলিশকে দেওয়া হলে এর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে গতকাল শনিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে গুমের ঘটনার সঙ্গে খোদ ক্ষমতাসীন সরকারই সম্পৃক্ত থাকে।
শফিকুর রহমান বলেন, গুমের মতো সংবেদনশীল বিষয়ের সুষ্ঠু তদন্ত ও যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার পূর্ণ দায়িত্ব মানবাধিকার কমিশনের মতো স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংস্থার হাতে থাকা উচিত ছিল। প্রস্তাবিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার যে বিল প্রস্তাব করেছে, তাতে কমিশনকে কার্যত একটি নখদন্তহীন বাঘে পরিণত করা হয়েছে।
তিনি গুমের শিকার ব্যক্তিদের অবিলম্বে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং এ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, শুধু গুমের সঙ্গে সরাসরি জড়িতরাই নয়, এর সঙ্গে পরোক্ষভাবে জড়িত ব্যক্তি ও মাস্টারমাইন্ডদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে অতীতে গুমের অভিযোগ ওঠার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গুম-সংক্রান্ত তথ্যভান্ডার তত্ত্বাবধানের দায়িত্বও সরকারের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। অথচ সরকারের অধীন এই তথ্যভান্ডার কতটা নিরপেক্ষভাবে সংরক্ষিত হবে এবং জনগণের সামনে সঠিক তথ্য প্রকাশ পাবে কি না, তা নিয়ে গভীর সংশয় রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গুমের অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্তের ক্ষমতা পুলিশকে দেওয়া হয়েছে এবং ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা অপরাধের তদন্তভার আবার তাদেরই হাতে তুলে দেওয়া অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত। জামায়াতের আমির সরকারকে রাজনৈতিকীকরণের মানসিকতা থেকে বের হয়ে জনগণের মৌলিক অধিকার বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান। নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুমকে বিশেষ অপরাধ হিসেবে পূর্ণ স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিও জানান তিনি।