উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মার্কিন বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধায় বাংলাদেশের পোশাক পণ্য রফতানি বৃদ্ধির প্রত্যাশায় এবং স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলোর জন্য কাঁচামালের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে দেশের প্রথম ডিজিটাল কাঁচা তুলার বাজার কটনপোর্ট চালু করেছে আমেরিবাংলা করপোরেশন। বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্ল্যাটফর্মটির আনুষ্ঠানিক উন্মোচন করেন আমেরিবাংলা করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আসওয়ার রহমান। দুই বছর ধরে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পর যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্য থেকে সংগৃহীত ৮২ টন উচ্চমানের কাঁচা তুলার প্রাথমিক প্রস্তাব নিয়ে প্ল্যাটফর্মটি সরাসরি কার্যক্রম শুরু করেছে। অনুষ্ঠানে টেক্সটাইল ও বাণিজ্যিক খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন, যাদের মধ্যে ইউসুফ বিন রাজ্জাক, খুরশিদ আলম রিমন, আলী আহমেদ খান, মো: গোলাম কিবরিয়া এবং আফসানা রহমান অংশ নেন।
সপ্তাহে ২৪ ঘণ্টা ও ৭ দিন পরিচালিত এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ডাইনামিক প্রাইসিং, যেখানে ক্রেতা অফার গ্রহণ না করা পর্যন্ত প্রতিদিন কাঁচামালের মূল্য ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকবে। এছাড়া তুলা কন্টেইনার হিসেবে বিক্রি করায় ছোট ও মাঝারি মিলগুলো সরাসরি কেনার সুযোগ পাবে এবং তালিকাভুক্ত সব কন্টেইনার ইতোমধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশ্যে চালানে রয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থাটি অল আমেরিকান কটন সার্টিফিকেশন এবং ইউএস কাস্টমসের সমর্থন দ্বারা সুরক্ষিত রয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। আমেরিবাংলা করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী আসওয়ার রহমান প্ল্যাটফর্মটিকে মধ্যস্বত্বভোগীদের বাধামুক্ত হিসেবে অভিহিত করে এর মাধ্যমে ঐতিহাসিক বাজার একচেটিয়াত্ব দূর হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
২০২৬ সালে কটনপোর্ট প্রাথমিকভাবে প্রতি মাসে ১০টি কন্টেইনার দিয়ে ট্রায়াল পিরিয়ড পরিচালনা করবে এবং পরবর্তী সময়ে ২০২৮ সালের মধ্যে প্রতি মাসে ১,৬০০টি কন্টেইনার বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। আমেরিবাংলা করপোরেশনের মূল লক্ষ্য হলো ২০৪৫ সালের মধ্যে পণ্য রফতানি, যন্ত্রপাতি বাণিজ্য ও মূলধনী অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ১০ বিলিয়ন ডলার থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশী উদ্যোক্তাদের তৈরি আমেরিবাংলা করপোরেশন মার্কিন বাজারে বাংলাদেশকে তুলে ধরার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে ৩০টিরও বেশি স্পিনিং মিলের মালিক এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরাসরি মার্কিন তুলা কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানানো হয়েছে।