উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
পিপিপির আওতায় চট্টগ্রাম বন্দরে বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল। এই প্রকল্পে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জমি ও মালিকানা ধরে রাখবে। ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালস প্রকল্পটির নকশা, অর্থায়ন, নির্মাণ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে।
কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরে লালদিয়া চরে প্রায় ৪৯ দশমিক ১৫ একর জমির ওপর এই টার্মিনালটি নির্মাণ করা হবে। এতে বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। আগামী রোববার এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ৩৩ বছরের কনসেশন মেয়াদের মধ্যে প্রথম তিন বছর নির্মাণ এবং পরবর্তী ৩০ বছর পরিচালনার সুযোগ পাবে এপিএম টার্মিনালস। শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পরিচালনার মেয়াদ আরও ১৫ বছর বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। টার্মিনালটিতে ৬১৬ মিটার দীর্ঘ জেটি ও ১০ মিটার ড্রাফটের জাহাজ ভেড়ানোর ব্যবস্থা থাকবে।
টার্মিনালটি চালু হলে বছরে প্রায় ৮ লাখ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হবে। বর্তমানে বন্দরে ২ হাজার ৭০০ টিইইউ ধারণক্ষমতার জাহাজ ভিড়লেও লালদিয়া টার্মিনালে সরাসরি ৬ হাজার টিইইউ ধারণক্ষমতার জাহাজ ভেড়ানো যাবে। এতে পণ্য পরিবহনে প্রায় ৭ থেকে ১৪ দিন সময় সাশ্রয় হবে।
প্রকল্পে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কনটেইনার ওঠানো-নামানোর জন্য বিদ্যুৎচালিত যন্ত্রপাতি এবং সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ইয়ার্ডের ক্রেনগুলো নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে দূরনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালনা করা হবে।
চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি আমিরুল হক বলেন, আন্তর্জাতিক অপারেটরদের মাধ্যমে টার্মিনাল পরিচালনা করা পেশাদারিত্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এটি বাংলাদেশের লজিস্টিক খাতে একটি শুভ সূচনা। বন্দর বিশেষজ্ঞ মো. জাফর আলম জানান, বড় মূলধনী বিনিয়োগ ছাড়াই বিদেশি প্রযুক্তি ও দক্ষতাকে কাজে লাগানোর বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে।