উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো একটি সঠিক ও নির্ভুল মুক্তিযোদ্ধার তালিকা প্রণয়ন করা। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অমুক্তিযোদ্ধাদের সুবিধা প্রদান, ভুয়া সনদের ব্যবহার এবং শহীদের সঠিক সংখ্যা নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করাকেই এখন প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন।
ইশরাক হোসেন জানান, বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৯৬ হাজারের বেশি মানুষ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত রয়েছেন। এই সুবিশাল তালিকাটিকে সংশোধন করা একটি বড় কর্মযজ্ঞ। এ জন্য আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে প্রতিটি ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে সরেজমিনে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করতে একটি বিশেষ প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে, যার মাধ্যমে পুরো তালিকাটি নতুন করে যাচাই-বাছাই করা সম্ভব হবে।
মন্ত্রণালয়টি প্রাথমিকভাবে তিনটি লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছে। প্রথমত, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ও অমুক্তিযোদ্ধা চিহ্নিত করা; দ্বিতীয়ত, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শহীদের সঠিক সংখ্যা ও তালিকা প্রণয়ন করা; এবং তৃতীয়ত, বীরাঙ্গনাদের বিদ্যমান তালিকাটি সঠিক ও সুনির্দিষ্ট করা। এছাড়া, রাজাকারদের একটি সঠিক ও সুনির্দিষ্ট তালিকা প্রণয়ন করা যায় কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অমুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান ও নাতি-নাতনিদের কোটা সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে নিজের কঠোর অবস্থানের কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিগত সরকার এই অযৌক্তিক সুবিধার মাধ্যমে বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করেছিল। এছাড়া, অমুক্তিযোদ্ধা হয়েও যারা ভুয়া সনদে চাকরি করছেন, তাদের বিষয়ে পরবর্তীতে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের তালিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতিসংঘের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী শহীদের সংখ্যা ১ হাজার ৪০০ জন এবং বিএনপির তথ্যমতে ২ হাজারের কাছাকাছি হলেও সরকারি গেজেটে এখন পর্যন্ত ৮৪৩ জনের নাম এসেছে। এই তালিকাটি আরও সুনির্দিষ্ট করার কাজ চলছে। পাশাপাশি, মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসাসেবা উন্নত করতে ও প্রবাসে থাকা অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের দেশে ফেরার ক্ষেত্রে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখার আশ্বাস দেন তিনি।