উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
বাংলাদেশে বিভিন্ন শব্দের মারপ্যাঁচে এলজিবিটি তথা সমকামিতা বৈধ করার প্রক্রিয়া চলছে বলে মন্তব্য করেছেন মূল্যবোধ আন্দোলনের চেয়ারম্যান ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন। মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট সকাল ১০টায় রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত জাতীয় উলামা-মাশায়েখ কনভেনশনে তিনি এই বক্তব্য দেন। ড. সরোয়ার হোসেন বলেন, ঈদ শোভাযাত্রায় সমকামিতার প্রতীক ইউনিকর্নের প্রদর্শনী এবং নববর্ষের ড্রোন শো-তে গে এঞ্জেল প্রদর্শনের মাধ্যমে এই এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। এছাড়া সংস্কার প্রস্তাবনায় ভাষার মারপ্যাঁচে এলজিবিটি অন্তর্ভুক্তির চেষ্টা এবং ট্রান্সজেন্ডার ও পতিতাদের অংশগ্রহণে মৈত্রীযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নিজ হাতে একজন জন্মগত পুরুষকে অদম্য নারী পুরস্কার ২০২৫ প্রদান করেছেন। সমকামী এজেন্ডা বাস্তবায়নের সুবিধার্থে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালය-এর নাম পরিবর্তন করে নারী ও শিশু মন্ত্রণালয় নামকরণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ২০২৬-এর প্রবেশপথে এলজিবিটির প্রতীক রংধনুর আদলে স্তম্ভ স্থাপন এবং শ্রম আইন সংস্কারের নামে ILO C190 সনদের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আলেম ও নাগরিকদের অনুরোধ উপেক্ষা করে জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের অফিস খোলা হয়েছে এবং জুলাই সনদ ও গণভোটকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে।
ড. সরোয়ার বলেন, বিগত সরকারের এসব পদক্ষেপ ট্রান্সজেন্ডার ও এলজিবিটি গোষ্ঠীর দুঃসাহস এমন বাড়িয়ে দিয়েছিল যে এক ট্রান্সজেন্ডার শিক্ষক আসিফ মাহতাব ও তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল। একাধিক জিডি করার পরও সে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে শহীদ মিনারে সমকামী বিয়ের দাবিতে অনশন করেছে। বর্তমান সরকার সেই ইউনূস সরকারের জারি করা বাংলাদেশ শ্রম সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৫ প্রশ্নহীনভাবে পাস করেছে। সংশোধিত এই শ্রম আইন ২০২৬-এ কোনো সংজ্ঞা ছাড়াই জেন্ডার, জেন্ডার পরিচয়, জেন্ডার অভিব্যক্তি এবং জেন্ডারভিত্তিক অন্যান্য আচরণ পরিভাষাগুলো সংযোজন করা হয়েছে।
তিনি জানান, ঢাকেশ্বরী মন্দিরে প্রকাশ্যে সমকামী বিয়ের আয়োজন হলেও প্রশাসন নির্বিকার রয়েছে এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বিবিএস এলজিবিটি নীতি গ্রহণ করেছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর ইনক্লুসিভ শিক্ষা ও প্লে ল্যাব মডেলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শরীফ-শরীফার গল্পের সেই একই অ্যাপ্রোচে এটি সাজানো হয়েছে। জেন্ডার পরিভাষা সম্পূর্ণ সমকামীবান্ধব উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ রাশিয়া, চীন, তুরস্ক, মালয়েশিয়া এবং ওআইসি ও মুসলিম বিশ্ব জেন্ডারবাদের বিপক্ষে অবস্থান করছে। লিবিয়ার শরিয়া রিসার্চ অ্যান্ড স্টাডিজ কাউন্সিল সামাজিক লিঙ্গ বা জেন্ডার পরিভাষার ব্যবহার হারাম ঘোষণা করেছে এবং ট্রান্সজেন্ডারবাদকে কুফরি আখ্যা দিয়েছে।
ভবিষ্যৎ প্রজন্ম রক্ষায় ট্রান্সজেন্ডারবাদ প্রত্যাখান করে রাষ্ট্রের সর্বস্তরে দ্বি-লিঙ্গ নীতি চালুর দাবি জানান বক্তারা। কনভেনশন থেকে সংশোধিত শ্রম আইন ২০২৬ বাতিলের পাশাপাশি তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়। যার মধ্যে রয়েছে জন্মগত বায়োলজিক্যাল লিঙ্গের ভিত্তিতে মাত্র দুটি লিঙ্গ—নারী ও পুরুষ স্বীকৃতি এবং মেডিকেল টেস্ট সাপেক্ষে হিজড়াদের স্বীকৃতি। এছাড়া সরকারি সব নীতি ও নথিতে জেন্ডার শব্দ বাদ দিয়ে কেবল জৈবিক লিঙ্গ ব্যবহার এবং জেন্ডারবাদকে চরমপন্থা হিসেবে চিহ্নিত করে প্রতিহত করার দাবি জানানো হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কর্মকাণ্ডে এলজিবিটি গোষ্ঠীর প্রতি সুস্পষ্ট পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ তোলেন।