উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। পিজিসিবির নিয়ন্ত্রণাধীন টিকে ১৩২/৩৩ কেভি সাবস্টেশনের একটি ট্রান্সফরমারে যান্ত্রিক ত্রুটি এবং ৩৩ কেভি ফিডারের দুটি কারেন্ট ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণের পর পুরো সাবস্টেশনটি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বোয়ালখালী ও পটিয়া এলাকার প্রায় এক লাখ গ্রাহক তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে পড়েছেন। গত শনিবার ২২ আগস্ট রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে এই দুর্ঘটনা ঘটে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ট্রান্সফরমার সচল করতে প্রায় এক মাস সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই সাবস্টেশন থেকে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর বোয়ালখালী ও পটিয়া এলাকার দুটি ৩৩ কেভি ফিডারের মাধ্যমে প্রায় ২০ থেকে ২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো। সাবস্টেশনটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শনিবার রাত থেকেই স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং বিকল্প সংযোগের মাধ্যমে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় লোডশেডিং বেড়ে গেছে। বিদ্যুৎহীন এই পরিস্থিতিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অসহনীয় গরমে পরীক্ষা দিতে হয়েছে এবং অতিরিক্ত গরমে পরীক্ষার খাতা ভিজে যাওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। এছাড়া বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যেও মারাত্মক প্রভাব পড়েছে এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
পিজিসিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আগেই পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে ফিডার দুটি স্থানান্তরের বিষয়ে অবহিত করলেও তা এখনো করা হয়নি। ইতিমধ্যে পিজিসিবির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলী এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার ও ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পিজিসিবি চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কায়েস জানিয়েছেন যে ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়ে গেছে এবং এটি ঠিক করতে সময় লাগবে। পিজিসিবি ও পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। পটিয়া থেকে বিকল্প লাইন দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও বর্তমানে গ্রাহকের চাহিদা অর্ধকের বেশি পূরণ করা যাচ্ছে না।