উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
সোমবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সড়ক ভবনের অডিটোরিয়ামে সড়ক দুর্ঘটনা পরবর্তী জরুরি সেবামূলক বিভিন্ন যানবাহনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন এবং এই পরিস্থিতি পরিবর্তন করতে সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার করেছে। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে চালকদের প্রশিক্ষণ, যানবাহনের ফিটনেস, অনিয়ন্ত্রিত গতি নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে চালু হওয়া জরুরি সেবার বিষয়ে বলা হয়, বিআরএসপি-এর আওতায় জয়দেবপুর-হাটিকুমরুল-বগুড়া-রংপুর, হাটিকুমরুল-নাটোর-রাজশাহী এবং জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ জাতীয় মহাসড়কের মোট ৫০০ কিলোমিটার অংশে ৬০টি বেসিক লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন থাকবে। প্রতি ১০ কিলোমিটার এলাকায় একটি করে অ্যাম্বুলেন্স রাখা হবে, যাতে দুর্ঘটনার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়া যায়। এছাড়া, রাজধানী ঢাকায় দুর্ঘটনা-পরবর্তী জরুরি সেবার জন্য ৪০টি মোটরসাইকেল অ্যাম্বুলেন্স এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে হাইওয়ে পুলিশের আওতায় ৮০টি প্যাট্রোল মোটরসাইকেল নিয়োজিত থাকবে।
সড়ক নিরাপত্তায় তিন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত ভূমিকার কথা উল্লেখ করে শেখ রবিউল আলম বলেন যে, সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় সড়ক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইন প্রয়োগ করছে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করছে। নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় এই তিন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন এবং ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে একটি সমন্বিত নিরাপদ সড়ক আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। মন্ত্রী আরও বলেন, ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও অদক্ষ চালক সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ, তাই চালকদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাদের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতাও যাচাই করা প্রয়োজন।
সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে মন্ত্রী জানান যে, বাসের আয়ুষ্কাল ২০ বছর এবং ট্রাকের আয়ুষ্কাল ২৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে এবং পুরোনো যানবাহন স্ক্র্যাপ ও রিসাইক্লিংয়ের জন্য নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে। ডাম্পিং স্টেশন স্থাপনের মাধ্যমে ফিটনেসবিহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন স্ক্র্যাপ ও রিসাইক্লিংয়ের আওতায় আনা হবে। জনগণের অর্থ ও বৈদেশিক সহায়তায় পরিচালিত প্রকল্পের শতভাগ সুফল জনগণকে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন যে, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ বা আইন করলেই হবে না, জনগণকে সড়ক ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে সচেতন করতে হবে এবং যারা দায়িত্বে রয়েছেন তাদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে।