উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
রংপুরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্যের নৃশংস হত্যাকাণ্ড কেবল একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়। বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ার মতো সাধারণ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে যেভাবে পুরো পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে, তা আমাদের স্তব্ধ করে দেয়। অপরাধীদের ঠাণ্ডা মাথায় খাদ্য ও পুনরায় মাদক গ্রহণের ঘটনা থেকে জবানবন্দিতে যা জানা গেছে, তা সামাজিক অবক্ষয়ের এক বীভৎস রূপ।
এর মাত্র ক’দিন আগেই লালমনিরহাটে মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় এক শিক্ষক হামলার শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, মাদকের নীল ছোবল এখন প্রতিবাদী ও নীতিবান নাগরিকের জীবনকেও সরাসরি বিপন্ন করে তুলছে। মাদক এখন আর কেবল ব্যক্তিগত নৈতিক স্খলনের বিষয় নয়, বরং এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার প্রধান অন্তরায়।
মাদকের অর্থ জোগাতে এবং আসক্ত অবস্থায় অপরাধের প্রতি লিপ্সায় অপরাধীদের মনে সামান্যতম মানবিকবোধ বা অনুশোচনা অবশিষ্ট থাকে না। এই চরম ভয়াবহতা থেকে সমাজকে রক্ষা করতে হলে রাষ্ট্র ও সমাজকে যৌথভাবে এখনই সর্বাত্মক পদক্ষেপ নিতে হবে। সীমান্ত পেরিয়ে মাদক প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধে কার্যকর প্রযুক্তি ও নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশীয় বিক্রয়চক্রের মূল উৎপাটন জরুরি।
শিক্ষক আরিফুল কিংবা গণপতি চক্রবর্তী হত্যাকাণ্ডের মতো সংবেদনশীল মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে দ্রুততম সময়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা দরকার। পাশাপাশি, প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলে যুবসমাজকে সচেতন করা এবং পরিবারে সন্তানদের চলাফেরায় নিবিড় পর্যবেক্ষণ রাখা আবশ্যক। সার্বিক এই সামাজিক ব্যাধির লাগাম এখনই টেনে না ধরলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অন্ধকারে তলিয়ে যাবে।