উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
দলের ভেতরের গণতন্ত্র সমান গুরুত্বপূর্ণ এবং সারা জীবন কয়েকজন মানুষ সব সিদ্ধান্ত নিলে নতুন ধারণা আসবে কোথা থেকে। তরুণ, নারী ও পেশাজীবীদের শুধু মিছিল বা সভায় ব্যবহার না করে নীতি তৈরির টেবিলে জায়গা দিতে হবে। প্রতিবছর বড় রাজনৈতিক দলগুলো একটি জাতীয় বিকল্প নীতি সম্মেলন করতে পারে যেখানে সরকারের সমালোচনা নয়, সমস্যার সমাধান পেশ করা হবে। স্বাধীন বিশেষজ্ঞ ও তরুণরা সেই প্রস্তাব যাচাই করবেন এবং তখন প্রতিযোগিতার ভাষা হবে কার সমাধান ভালো। ইতিহাসের গৌরব দিয়ে অনন্তকাল ভবিষ্যৎ চালানো যায় না এবং প্রতিটি প্রজন্মকে নতুন কাজের মাধ্যমে রাজনৈতিক বৈধতা অর্জন করতে হয়।
রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের ভাষা বদলানো জরুরি কারণ লাখো মানুষের সমাবেশ জনপ্রিয়তার চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। ডিজিটাল যুগের তরুণ প্রজন্ম এখন জানতে চায় দলের ধারণা, পরিকল্পনা এবং সমস্যা অনুধাবনের ক্ষমতা কেমন। বিশাল জনসভা একটি দিনের ছবি তৈরি করলেও একটি ভালো নীতি পুরো প্রজন্মের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে। তাই শোডাউন থেকে রাজনীতিকে আইডিয়া-ডাউনের দিকে নিয়ে যাওয়া এবং কার কাছে বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা আছে সেই প্রতিযোগিতা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে শিক্ষা নিয়ে রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও প্রতিপক্ষকে রাষ্ট্রের শত্রু না ভেবে অংশীদার ভাবতে হবে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার চক্র শেষ পর্যন্ত কোনো দলকে স্থায়ী বিজয় দেয় না বরং রাষ্ট্রকে দুর্বল করে তোলে।
নির্বাচনের আগের মিথ্যা প্রতিশ্রুতির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে নির্বাচনি ইশতেহারে অর্থায়ন ও সময়সীমার সুনির্দিষ্ট হিসাব থাকতে হবে। দেশপ্রেমের ধারণা নতুন করে সংজ্ঞায়িত করে রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা, দুর্নীতি না করা এবং দলের অপরাধীর বিরুদ্ধেও অবস্থান নিতে হবে। দলের ভেতরে স্বয়ংক্রিয় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে যাতে চাঁদাবাজি বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে কেন্দ্রীয় নেতার ফোনের অপেক্ষা করতে না হয়। নির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাময়িক বরখাস্ত ও স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে মন্ত্রী থেকে কর্মী সবার জন্য শাস্তির বিধান থাকতে হবে। রাজনৈতিক দলের অর্থায়নে স্বচ্ছতা আনতে হবে এবং কে টাকা দিল ও কীভাবে ব্যয় হলো তা প্রকাশ করতে হবে। আধুনিক রাজনৈতিক দলকে শুধু ভোট নয়, জনগণের প্রকৃত আস্থা অর্জন করতে হবে।