উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া ও হবিগঞ্জের মতো প্রধান প্রধান শিল্পাঞ্চলে শত শত কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। জ্বালানির অভাবে চাকা না ঘোড়ায় বিদেশি ক্রেতাদের অর্ডার বাতিলের উপক্রম হয়েছে এবং সাভার-আশুলিয়ায় ইতোমধ্যে হাজার হাজার শ্রমিক ছাঁটাই হয়েছেন। ব্যাংক ঋণ, গ্যাস বিল ও শ্রমিকের বেতন পরিশোধের চিন্তায় শিল্পোদ্যোক্তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এবং লাখ লাখ শ্রমিক কর্মহীন সময় পার করছেন। শিল্পকারখানার জন্য বরাদ্দ গ্যাসের বেশির ভাগ বিদ্যুৎ প্রকল্পে সরবরাহ করায় এবং ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর এই সংকট শুরু হয়।
১১ আগস্ট আরামকোর ‘মস টাইপ’ কার্গো পৌঁছানোর পর তা পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ আখ্যা দিয়ে এক্সিলারেট খালাস করতে অস্বীকৃতি জানালে বিপর্যয় আরও ঘনীভূত হয়। চার বছর আগেও একই ধরনের কার্গো থেকে এলএনজি খালাসের নজির থাকলেও বর্তমান কারিগরি দ্বন্দ্ব ও আবহাওয়ার অজুহাতে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। কোন টার্মিনালে কোন কার্গো খালাসযোগ্য, তা আগে থেকে নিশ্চিত না করায় সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যা শিল্প খাতকে সংকটে ফেলেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সময়মতো পণ্য পাঠাতে না পারলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এবং প্রতিযোগী দেশগুলোর জন্য সুযোগ তৈরি হয়।
সরকার ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানাচ্ছে যে বিগত সরকারের ভুল সিদ্ধান্তের খেসারত দিতে হচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা পরিস্থিতি সামলাতে কাজ করছেন। তবে কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য কিংবা দীর্ঘমেয়াদি আশ্বাসে সংকট কাটবে না এবং দ্রুত সমাধান না এলে শ্রমিকদের কর্মহীনতা সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় রূপ নিতে পারে। পেট্রোবাংলা, আরপিজিসিএল, এক্সিলারেট এনার্জি এবং সামিট গ্রুপের মধ্যকার প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা অবিলম্বে নিরসন করা প্রয়োজন। কূটনৈতিক ও প্রযুক্তিগত মধ্যস্থতার মাধ্যমে আটকে থাকা কার্গো খালাস এবং দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উত্তোলন জোরদার করে শিল্পে গ্যাসের ন্যূনতম চাপ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।