উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনায় একের পর এক নিয়োগ নিয়ে পক্ষে–বিপক্ষে দুরকম মতামত উঠে এসেছে। আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর রমনায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে এক গোলটেবিল আলোচনায় এই বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেন রাজনৈতিক ব্যক্তি ও গবেষকরা। অ্যালায়েন্স ফর মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস (এএমআরএ) আয়োজিত ‘গণ-অভ্যুত্থানোত্তর বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি কোন পথে?’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে বক্তারা বিভিন্ন মতামত তুলে ধরেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রশাসন ও স্থানীয় সরকারে দলীয়করণের বিরুদ্ধে জোরালো বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য মো. আবদুল মান্নান। নাজিবুর রহমান বলেন, চব্বিশের বিপ্লবে প্রধান বিষয় ছিল দেশে আর বৈষম্য করা হবে না কিন্তু দলীয় পরিচয়ে নিয়োগের মাধ্যমে সেই চেতনার মূলে আঘাত করা হচ্ছে। পুলিশ–প্রশাসনে দলীয়করণ অন্তত ১০ শতাংশ কমিয়ে আনার আহ্বান জানিয়ে নুসরাত তাবাসসুম বলেন, দেশ অনিরাপত্তার চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে যাচ্ছে এবং পুলিশ-প্রশাসন দলকে সার্ভিস দিলে কোনো পরিবর্তন আসবে না।
অন্যদিকে দ্য ডেইলি স্টারের নির্বাহী সম্পাদক কামাল আহমেদ সরকারের উদ্দেশে বলেন, দলীয় লোক নিয়োগ দিন, তবে যোগ্য লোক নিয়োগ দিন এবং সবার আগে বাংলাদেশকে নিয়ে ভাবতে হবে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাহরিন আই খান বলেন, দলীয় মানুষ পেশাদারভাবে দায়িত্ব পালন করলে সেই নিয়োগে কোনো সমস্যা নেই। দলীয় পরিচয় থাকা কোনো অন্যায় নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ বলেন, সেই ব্যক্তির আচরণটা দলীয় হচ্ছে কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক জামায়াতের নেতাদের উদ্দেশে বলেন, উত্তেজিত হতে গিয়ে আমরা যেন কোনোভাবেই আত্মঘাতী না হই। সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন (পুতুল) বলেন, এই সরকার ক্ষমতায় নয়, দায়িত্বে আছে এবং সবার যৌক্তিক বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়েই কাজ করতে চায়। আয়োজনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, আমরা সেই সংসদ ও রাষ্ট্রকাঠামোই চাই, যেখানে সরকারি দল ও বিরোধী দল পরস্পরকে দেশের স্বার্থে সহযোগিতা করবে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এএমআরএর আহ্বায়ক অধ্যাপক বুলবুল সিদ্দিকী।