উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
প্রিন্ট সংস্করণে প্রকাশিত এক নিবন্ধে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এটিএম জিয়াউল হাসান বলেছেন যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। দীর্ঘ সতেরো বছর সাধারণের কাতারে অপেক্ষা করা এই বিশ্লেষকের মতে, প্রধানমন্ত্রী অসফল হলে তার মূল্য পুরো বাংলাদেশকেই দিতে হবে। পঞ্চান্ন বছর ধরে দক্ষতার চেয়ে বেশি সনদ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি শিক্ষাব্যবস্থা ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন। জুলাইয়ের তরুণ শক্তিকে শত্রু নয় বরং নতুন প্রজন্ম হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন যে বিগত পাঁচ দশকের মধ্যে এটাই শ্রেষ্ঠ সুযোগ।
তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার পর প্রায় ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও উদ্বেগের জায়গাগুলো নিয়ে নীরব থাকার সময় আর নেই বলে মন্তব্য করেন লেখক। বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং গণভোটে রাষ্ট্র মেরামতের ম্যান্ডেট পাওয়ার পরও গত পনেরো বছরে রাষ্ট্র ভেতর থেকে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী শুরুতেই প্রটোকল কমানো, সচিবালয় থেকে কাজ করা এবং ব্যক্তিগত ব্যয়ে সংযম দেখিয়ে ক্ষমতার আবহ বদলেছেন। প্রতিশোধপরায়ণ না হয়ে অতীতের হিসাব আদালতের ওপর ছেড়ে দেওয়া এবং শুরুতেই নয়াদিল্লি বাদ দিয়ে কুয়ালালামপুর ও বেইজিংকে বেছে নেওয়া তার বিরল নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্য।
নিবন্ধে দলের ভেতরের ঘুণপোকাদের থামানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়েছে যে নিজের দলের বেপরোয়া কর্মীরাই বর্তমান পরিস্থিতি তৈরির জন্য যথেষ্ট হতে পারে। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটির যেসব নেতাকর্মী কেবল ক্ষমতার অপেক্ষায় ছিল, তারা এখন বিভিন্ন জেলায় চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজিতে জড়িয়ে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। মন্ত্রণালয়ের আগে থানাগুলো ঠিক করার তাগিদ দিয়ে লেখক প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা দূর করতে প্রতি তিন মাসে জেলা অনুযায়ী মূল্যায়ন ও জবাবদিহি প্রকাশের পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া বিচারকার্য আইনি শৃঙ্খলা মেনে এবং অর্থনীতিকে দৃশ্যমান সংস্কারের মাধ্যমে চালের দাম ও ব্যবসার খরচ কমানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে আত্মসম্মান বজায় রেখে ভারতসহ আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পারস্পরিকতার ভিত্তিতে গড়ার কথা বলা হয়েছে। মিয়ানমার হয়ে পূর্বমুখী বিকল্প পথ এবং চীন, মালয়েশিয়া, তুরস্ক, জাপান ও মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে সম্পর্ক বৈচিত্র্যময় করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। লেখক সতর্ক করে বলেছেন যে এক নির্ভরশীলতা থেকে আরেক নির্ভরশীলতায় ঢোকা কৌশলগত স্বাধীনতা নয়। বাংলাদেশ ও দেশের ভবিষ্যৎ টিকিয়ে রাখতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে কোনো অবস্থাতেই সময় নষ্ট না করে কঠোর হাতে সংস্কার বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন এই বিশ্লেষক।