উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার দেবনগর ইউনিয়নের নিজবাড়ী গ্রামে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিজের স্বপ্নের কবুতরের খামারে খাবার দিতে এসে মুহূর্তের মধ্যেই সর্বস্ব হারানোর মতো পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন খামারি বাবু।
শনিবার (২২ আগস্ট ২০২৬) রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে হঠাৎ খামারের ওপর একটি বড় গাছ ভেঙে পড়ে। বিকট শব্দে গাছটি পড়ে খামারটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ভেঙে যায় কবুতরের ঘর। গাছের নিচে চাপা পড়ার আশঙ্কার মধ্যেই প্রাণ বাঁচাতে ছুটতে হয় বাবু, তার স্ত্রী ও তিন সন্তানকে। ভাগ্যক্রমে পরিবারের কেউ আহত না হলেও মুহূর্তের মধ্যে খামার থেকে উড়ে যায় বিপুলসংখ্যক কবুতর।
খামারি বাবুর ধারণা, উড়ে যাওয়া কবুতরের মূল্য প্রায় তিন লাখ টাকা। নিজের চোখের সামনে দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফসল এভাবে হারিয়ে যেতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
জানা যায়, বাবু ঢাকা মিরপুর-১ এলাকা থেকে প্রায় চার লাখ টাকা ব্যয়ে কবুতর কিনে এনে এই খামার শুরু করেছিলেন। খামার গড়ে তুলতে তিনি তার বেশ কয়েকটি গরুও বিক্রি করেছিলেন। নিজের সংসারের প্রয়োজনের কথা না ভেবে ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে কবুতরের পেছনে বিনিয়োগ করেছিলেন তিনি।
কিন্তু শুরুতেই আসে বড় ধাক্কা। খামারে ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিলে প্রায় এক লাখ টাকা মূল্যের কবুতর মারা যায়। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও হাল ছাড়েননি বাবু। ওষুধ ও পরিচর্যার মাধ্যমে বেঁচে থাকা কবুতরগুলোকে সুস্থ করে আবারও নতুন করে স্বপ্ন দেখা শুরু করেন। ধীরে ধীরে খামারটি যখন ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল, তখনই ঘটে গেল এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
বাবু বলেন, “আমার স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে কবুতরের খামারে খাবার দিতে এসেছিলাম। কিছুক্ষণ পরই হঠাৎ খামারের ওপর গাছটি ভেঙে পড়ে। আল্লাহর রহমতে আমরা সবাই বেঁচে গেছি। কিন্তু আমার অনেক কবুতর খামারে নেই। চোখের সামনে আমার এত দিনের কষ্টের জিনিসগুলো উড়ে চলে গেছে। আমি কীভাবে এই ক্ষতি সামাল দেব, জানি না।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, খামারের পাশে থাকা গাছটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। বিষয়টি নিয়ে গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে গাছটি অপসারণের জন্য জানানো হয়েছিল। তবে অভিযোগ রয়েছে, সময়মতো গাছটি অপসারণ করা হয়নি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, “গাছটি নিয়ে আমি এর আগেও বেশ কয়েকবার বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহাগ চন্দ্র সাহাকেও বিষয়টি জানিয়েছিলাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আজ গাছটি ভেঙে পড়ে আমার এলাকার একজন ছোট ভাইয়ের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। সে অনেক কষ্ট করে কবুতরের খামারটি গড়ে তুলেছিল। আমি চাই, তার এই ক্ষতির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হোক এবং সে যেন তার ন্যায্য পাওনা পায়।”
একদিকে পরিবারের সদস্যদের প্রাণে বেঁচে যাওয়ার স্বস্তি, অন্যদিকে চোখের সামনে লাখ লাখ টাকার সম্পদ হারানোর কষ্ট—সব মিলিয়ে বাবুর পরিবারে নেমে এসেছে বিষাদের ছায়া।
স্থানীয়দের দাবি, ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ গাছ দ্রুত অপসারণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত খামারি বাবুর ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হোক।