উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
প্রিন্ট: ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩৬ এএম
গাফিলতির অভিযোগ খতিয়ে দেখা জরুরি
প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
মঙ্গলবার গভীর রাতের নিকশ অন্ধকারে ভারতের কলকাতার প্রাণকেন্দ্র নিউমার্কেট লাগোয়া মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি তথাকথিত বাজেট হোটেলে ঘটে গেছে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। এতে আট বাংলাদেশিসহ নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। বলা হচ্ছে, এটি একটি আকস্মিক দুর্ঘটনা; কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়-এটি আসলেই কি আকস্মিক দুর্ঘটনা? নাকি এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা, অথবা প্রশাসনিক গাফিলতি? চিকিৎসার তাগিদে আসা চার বছরের এক শিশু ও তার পরিবার থেকে শুরু করে সাধারণ ব্যবসায়ী-ধোঁয়ার বিষাক্ত ফাঁদে শ্বাস আটকে চিরতরে হারিয়ে গেলেন। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে হাসপাতালে রয়েছেন আরও কয়েকজন।
যারা বেরিয়ে আসতে পেরেছেন, তারা বেঁচে গেছেন। তবে তাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে হোটেলটির অনিরাপদ পরিবেশের বর্ণনা-বহুতল ভবনের ভেতরে ছোট আকারের খোপ খোপ ঘর, জরুরি নির্গমনের পথ নেই, চলাচলের একমাত্র পথ একটি সরু-প্যাঁচানো লোহার সিঁড়ি। অথচ দিব্যি বহাল তবিয়তে বছরের পর বছর চলছিল রমরমা বাণিজ্য। মূল প্রশ্ন হলো, এসব ‘মৃত্যুকূপ’ দিনের পর দিন কলকাতা শহরের বুকে কীভাবে চালু রয়েছে? অভিযোগ উঠেছে, কলকাতা পৌরসভা থেকে শুরু করে দমকল বিভাগের প্রশাসনিক নজরদারির উদাসীনতা পরিণতি এই অগ্নিকাণ্ড। ভারতের গণমাধ্যম সূত্রেই জানা যাচ্ছে, দেড় দশক ধরে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়, যেখানে অধিকাংশ বাংলাদেশি নানা কারণে অর্থ খরচ করে স্বল্প সময়ের জন্য সেখানকার হোটেলগুলোয় অবস্থান করতেন, সেখানে কোনো ধরনের অগ্নিনিরোধক অডিট হয়নি। বলতেই হচ্ছে, এটি গাফিলতি ছাড়া আর কিছু নয়। আরও ভয়াবহ বিষয় হচ্ছে, ওই এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের এমন নজির আরও আছে। সেক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এর দায় কীভাবে এড়াবে?
প্রশ্ন ওঠে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের দায়িত্ব নিয়েও। হোটেলটি থেকে বেঁচে যাওয়া অতিথিদের অভিযোগ-ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এত বাংলাদেশির মৃত্যু হলেও দূতাবাসের পক্ষ থেকে আশানুরূপ সহযোগিতা মেলেনি। তাদের প্রশ্ন, দূতাবাসের এমন অনীহা, অকর্মণ্যতার কারণ কী? এ প্রশ্ন আমাদেরও। প্রতিবছর মূলত চিকিৎসা ও ব্যবসার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষ ভিড় জমান মধ্য কলকাতায়। থাকেন এসব কম খরচের হোটেলে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রতিনিয়ত নিবিড় যোগাযোগ রাখা, বাজেট হোটেলগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা কিংবা নিজ দেশের নাগরিকদের জন্য ন্যূনতম নিরাপদ আবাসনের একটি গাইডলাইন জারি করার প্রয়োজনীয়তা কি উপহাইকমিশন কখনো অনুধাবন করেছে?
এই ট্র্যাজেডি অন্তত একটি নির্মম সত্যকে নতুন করে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল-কলকাতার পৌর প্রশাসন থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো-সবার উদাসীনতার মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। আমরা মনে করি, কালবিলম্ব না করে হোটেল মালিক থেকে শুরু করে এ ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা দরকার। সেখানকার কর্তৃপক্ষকে মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশ থেকে যারা যান, তারা অর্থ খরচ করে নিয়ম মেনেই যান এবং তারা পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতিতে প্রাণসঞ্চারও করছেন। কাজেই নিশ্চিত নিরাপত্তা পাওয়ার পূর্ণ অধিকার তাদের রয়েছে। আমরা আশা করব, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কলকাতার পৌর প্রশাসন যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।